প্রশাসনিক জটিলতায় বিপাকে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব, কলকাতা লিগের আগে উদ্বেগে খেলোয়াড়রা

রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে ক্লাবঘরে তালা থাকায় সমস্যায় অ্যাভেনিউ ক্লাব। কলকাতা লিগের আগে প্রয়োজনীয় নথি ও সরঞ্জাম না পাওয়ায় উদ্বেগে ফুটবলাররা।

The Striker in Football

বিট্টু দত্ত, কলকাতা: কলকাতার ফুটবল মানচিত্রে বহু বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে অ্যাভেনিউ ক্লাব (Avenue Club)। এই ক্লাবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য ফুটবলারের উত্থানের গল্প। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এখন সেই ক্লাবই বড় সংকটের মুখে। রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে ক্লাবটির যে ঘরটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, সেটি তালাবন্ধ হয়ে থাকায় সমস্যায় পড়েছেন কর্তারা, কোচ এবং ফুটবলাররা। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, সামনে কলকাতা লিগের ম্যাচ থাকলেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ক্রীড়া সামগ্রী বের করা যাচ্ছে না।

অ্যাভেনিউ ক্লাবই ছিল রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে প্রথম ক্লাব, যাদের জন্য স্থায়ী ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বছরের পর বছর সেই ঘর থেকেই ক্লাবের সমস্ত প্রশাসনিক কাজ পরিচালিত হয়েছে। ফুটবলারদের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাগজপত্র, জার্সি, বুট, প্রশিক্ষণের সরঞ্জাম-সহ প্রয়োজনীয় সব কিছুই সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে। স্টেডিয়ামের লাগোয়া মাঠেই নিয়মিত অনুশীলন করে ক্লাবের ফুটবলাররা।

   

ক্লাব সূত্রের দাবি, রাজ্যে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর স্টেডিয়ামের একাধিক ঘর জবরদখলের অভিযোগ তুলে তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। সেই তালার কবলে পড়ে অ্যাভেনিউ ক্লাবের ঘরও। ক্লাবের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত সেই তালা খোলা হয়নি। ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে।

অ্যাভেনিউ ক্লাবের ফুটবলাররাই কলকাতা লিগে চৈতালি সংঘের হয়ে খেলেন। আগামী ২ জুলাই তাদের গুরুত্বপূর্ণ লিগ ম্যাচ রয়েছে। কিন্তু ঘরের ভিতরে থাকা নথিপত্র ও সরঞ্জাম বের করতে না পারলে দলের অংশগ্রহণই অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। এতে বহু তরুণ ফুটবলারের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ক্লাব কর্তারা।

ক্লাবের প্রাক্তন ফুটবলার ও কর্মকর্তা সুব্রত গুহ বলেন, “আমাদের ক্লাবের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আমরা কখনও বেআইনিভাবে কোনও জায়গা দখল করিনি। তারপরও ঘরে তালা পড়ে রয়েছে। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার আবেদন করেছি, কিন্তু এখনও কোনও সমাধান মেলেনি। ফুটবলারদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রাক্তন ফুটবলার প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি একসময় এই ক্লাব থেকেই খেলেছেন। তাঁর কথায়, “অ্যাভেনিউ শুধু একটা ক্লাব নয়, এটা বহু ফুটবলারের স্বপ্নপূরণের ঠিকানা। আমি নিজের ফুটবল জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় এই ক্লাবের সঙ্গে কাটিয়েছি। এখান থেকে অসংখ্য প্রতিভাবান ছেলে উঠে এসেছে। আজ সেই ক্লাব প্রশাসনিক সমস্যার কারণে এমন অবস্থায় পড়েছে, এটা সত্যিই কষ্টের। কোনও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত, কিন্তু তার জন্য খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ আটকে রাখা ঠিক নয়। ঘরের ভিতরে রয়েছে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাগজপত্র, প্রশিক্ষণের সরঞ্জাম এবং বহু প্রয়োজনীয় নথি। এগুলো ছাড়া দল মাঠে নামতে পারবে না। আমি চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান করুক। কারণ ক্ষতি হবে তরুণ ফুটবলারদের, যাদের স্বপ্ন এখনও গড়ে উঠছে। ফুটবলকে বাঁচাতে হলে এই ধরনের সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়াই উচিত।”

এখন সকলের নজর প্রশাসনের সিদ্ধান্তের দিকে। সময়মতো ঘরের তালা না খুললে শুধু একটি ক্লাব নয়, একঝাঁক উদীয়মান ফুটবলারের লিগে খেলার স্বপ্নও ধাক্কা খেতে পারে। কলকাতার ফুটবলের স্বার্থে দ্রুত এই অচলাবস্থার অবসান চান ক্রীড়ামহলের সকলেই।