কাঠুয়া (জম্মু): অমরনাথ যাত্রা শুরু হওয়ার ঠিক আগে জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া (Haji Latif)জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী পেল বড় সাফল্য। পুলিশ গ্রেফতার করেছে হাজি লতিফ নামে এক ব্যক্তিকে, যিনি পাকিস্তানি জঙ্গিদের অন্যতম প্রধান সহায়ক বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি গত কয়েক বছর ধরে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভারতে একাধিক জঙ্গিকে অনুপ্রবেশ করাতে সাহায্য করেছেন বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দাবি, তার সাহায্যে অন্তত ১২ জনের বেশি জঙ্গি ভারতে ঢুকেছে।
অমরনাথ যাত্রায় লক্ষ লক্ষ মানুষ পবিত্র গুহায় যাবেন। এমন সময়ে এই ধরনের একজন সক্রিয় সহায়ককে গ্রেফতার করা নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা ও দক্ষতার প্রমাণ। পুলিশ জানিয়েছে, হাজি লতিফ দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং তাদের নির্দেশ মতো জঙ্গিদের আশ্রয়, খাবার, যাতায়াত এবং লুকিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে দিতেন।
আরও দেখুনঃ ৫৫ কোটি টাকার ৩৭ কেজি সোনা উদ্ধার গুয়াহাটিতে! গ্রেফতার মহারাষ্ট্রের পাচারকারী
স্থানীয় এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে তার উপর নজর রাখছিলাম। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা আরও অনেককে চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে।” গ্রেফতারের পর তার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। বিভিন্ন নথিপত্র, মোবাইল ফোন এবং যোগাযোগের রেকর্ড উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে।
কাঠুয়ার সাধারণ মানুষ এই খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “অমরনাথ যাত্রার সময় হাজার হাজার মানুষ আসবেন। যদি কোনো বিপদ ঘটত, তাহলে আমাদের সবার ক্ষতি হতো। পুলিশ সময়মতো পদক্ষেপ নিয়েছে, এটা ভালো।” অনেক অভিভাবক এখন নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করছেন। তারা বলছেন, যাত্রার সময় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা খুবই জরুরি।
হাজি লতিফের গ্রেফতার পাকিস্তান থেকে চলা অনুপ্রবেশের নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মতে, সীমান্তের ওপার থেকে প্রশিক্ষিত জঙ্গিদের পাঠানো হয় এবং দেশের ভিতরে তাদের সহায়তা করে এমন লোকজন থাকে। এই চক্র ভাঙতে না পারলে শান্তি বজায় রাখা কঠিন। গত কয়েক বছরে জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে বেশ কয়েকটি জঙ্গি গোষ্ঠীকে দুর্বল করা হয়েছে। কিন্তু এখনও কিছু স্থানীয় সহায়ক সক্রিয় রয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে।





