পাস করাতে ৫ লক্ষ! জয়পুরে প্যারামেডিকেল পরীক্ষায় ধরা পড়ল বিশাল টুকলি র‍্যাকেট

জয়পুর: রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরে (Jaipur)এক লজ্জাজনক ঘটনায় প্যারামেডিক্যাল ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ একটি বিশাল চিটিং র‍্যাকেট ভেঙে দিয়েছে, যেখানে ৪৫ জন…

jaipur-paramedical-exam-cheating-racket-5-5-lakh-scam

জয়পুর: রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরে (Jaipur)এক লজ্জাজনক ঘটনায় প্যারামেডিক্যাল ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ একটি বিশাল চিটিং র‍্যাকেট ভেঙে দিয়েছে, যেখানে ৪৫ জন প্রথম বর্ষের প্যারামেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য টাকার বিনিময়ে চক্রান্ত চলছিল। প্রতি ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে ৫.৫ লক্ষ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে কলেজের কর্মকর্তারাও রয়েছেন।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষামহলে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্যারামেডিক্যাল কোর্সে ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীরা সাধারণত নার্সিং, ল্যাব টেকনিশিয়ান, ফার্মাসিস্টসহ স্বাস্থ্যসেবার মূল স্তম্ভ হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু এই চক্র তাদের সেই স্বপ্নকে টাকার খেলায় পরিণত করতে চেয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে উদ্ধার হওয়া ডায়েরি, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং অ্যাডমিট কার্ডের পিডিএফ ফাইলগুলো থেকে পুরো চক্রান্তের ছবি স্পষ্ট হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে সম্পূর্ণ প্রযুক্তি-নির্ভর, বড় বার্তা সেনাপ্রধানের

এখন তদন্ত চলছে, আরও অনেকের নাম বেরিয়ে আসতে পারে। অনেক অভিভাবকেরই একই অবস্থা। তারা ভেবেছিলেন, কোচিং বা বিশেষ সাহায্যের নামে টাকা দিলে সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে। কিন্তু বাস্তবে এটি ছিল একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণার জাল।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চক্রটি কলেজের অভ্যন্তরীণ লোকজনের সহায়তায় কাজ করত। পরীক্ষার হলে প্রক্সি বসানো, প্রশ্নপত্র ফাঁস, উত্তরপত্র পরিবর্তন এমন নানা কৌশলের পরিকল্পনা চলছিল।

উদ্ধার হওয়া চ্যাটে দেখা যায়, কীভাবে টাকা ভাগাভাগি করা হবে, কোন ছাত্রের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সব বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একটি ডায়েরিতে ৪৫ জন ছাত্রছাত্রীর নাম, টাকার অঙ্ক এবং যোগাযোগের বিবরণ লেখা ছিল।জয়পুর পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা প্রাথমিক তদন্তে দেখেছি এটি শুধু একটি কলেজে সীমাবদ্ধ নয়। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও যোগসূত্র থাকতে পারে। আমরা প্রত্যেক অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। যারা এই চক্রে জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেফতার চারজনের মধ্যে দু’জন কলেজের প্রশাসনিক পদে ছিলেন, যা ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।এই ঘটনা শিক্ষাক্ষেত্রে নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরেছে। প্যারামেডিক্যাল শিক্ষা তো শুধু ডিগ্রির বিষয় নয়। এর সঙ্গে মানুষের জীবন-মৃত্যু জড়িত। যারা চিটিং করে পাস করবে, তারা ভবিষ্যতে রোগীদের সেবা করতে গিয়ে কী করবে? এই প্রশ্ন এখন অনেক শিক্ষাবিদ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। রাজস্থানের শিক্ষা দফতর ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।