অ্যাকশন মোডে মুখ্যমন্ত্রী! হুমায়ূনের বাড়িতে দুই থানার পুলিশ

মুখ্যমন্ত্রীর আল্টিমেটামের পর দিনই হুমায়ুন কবিরের (Humayun Kabir)বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে শক্তিনগর এবং রেজিনগর থানার পুলিশ। হুমকি এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানি মূলক বক্তৃতা করেছিলেন হুমায়ুন। তারপরই বিধানসভায়…

humayun-kabir-house-police-visit-shaktinagar-rejinagar

মুখ্যমন্ত্রীর আল্টিমেটামের পর দিনই হুমায়ুন কবিরের (Humayun Kabir)বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে শক্তিনগর এবং রেজিনগর থানার পুলিশ। হুমকি এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানি মূলক বক্তৃতা করেছিলেন হুমায়ুন। তারপরই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পরের দিনই হুমায়ূনের বাড়িতে দুই থানার পুলিশ।

গত ২৬ জুন রেজিনগরের একটি জনসভায় বিজেপি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ্য করে হুমায়ুন কবির যে বক্তব্য দেন, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়। সভায় তিনি কথিতভাবে উস্কানিমূলক ভাষণ দেন এবং ‘স্যাটাভাঙা মার’ দেওয়ার মতো মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিরোধী দল বিজেপি এই মন্তব্যকে আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষে বিপজ্জনক বলে দাবি করে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানায়।

   

আরও দেখুনঃ বদলে গেল সংরক্ষণের খোলনোলচে! বাংলায় OBC ক্যাটেগরিতে এখন কত সম্প্রদায়?

এরপর বিধানসভার অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও কঠোর অবস্থান নেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আইন নিজের পথে চলবে এবং কেউ যদি উস্কানিমূলক বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর থেকেই প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল।

এরই মধ্যে হুমায়ুন কবিরের বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। শক্তিনগর এবং রেজিনগর থানার পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানায়। সেই দুই থানার পুলিশই সরকারি নোটিশ নিয়ে বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুটি পৃথক নোটিশে হুমায়ুন কবিরকে আগামী ৩ জুলাই এবং ৫ জুলাই সংশ্লিষ্ট থানায় সশরীরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করা এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ করতেই এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। এখনও পর্যন্ত এটি তদন্তের অংশ এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শুধু বিধায়ক নন, বিতর্কিত ওই জনসভার আয়োজকদের বিরুদ্ধেও প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই সভার সঙ্গে যুক্ত তিনজন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, সভার অনুমতি, বক্তব্যের প্রকৃতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।