কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই বেআইনি জবরদখল এবং অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার। ফুটপাত, রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে সরকারি জমি, সর্বত্রই চলছে জবরদখল মুক্ত করার কাজ। এবার প্রশাসনের সেই কড়া নজর পড়েছে কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ শিয়ালদা ফ্লাইওভার বা বিদ্যাপতি সেতুর ওপর। এই উড়ালপুলের নীচে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে গজিয়ে ওঠা দোকানগুলিকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার জন্য আইনি নোটিশ ধরানো হয়েছে। পুরসভার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জায়গা খালি না করলে দোকানগুলি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে রুটিরুজি হারানোর আশঙ্কায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাতে শুরু করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।b (Sealdah Flyover Eviction Notice)
পুরসভার কড়া নোটিশে ঠিক কী বলা হয়েছে?
শিয়ালদা ফ্লাইওভার শহরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন, আর তার নীচেই দীর্ঘদিন ধরে রমরমিয়ে চলছে অসংখ্য অবৈধ দোকান। এবার সেই বেআইনি দখলদারদের উৎখাত করতে উদ্যোগী হয়েছে কলকাতা পুরসভা (কেএমসি)। সূত্রের খবর, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রোডে অবস্থিত বিদ্যাপতি সেতুর নীচে যারা অবৈধভাবে অস্থায়ী কাঠামো বা দোকান তৈরি করেছেন, তাঁদের ৭ দিনের মধ্যে সেই কাঠামো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কলকাতা পৌর কর্পোরেশন আইন ১৯৮০-এর ধারা ৩৭১ এবং ৫১৬ নম্বর ধারার বিধান লঙ্ঘন করে এই অস্থায়ী নির্মাণগুলি করা হয়েছে। তাই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকে আগামী ৭ দিনের মধ্যেই সমস্ত অবৈধ কাঠামো নিজ দায়িত্বে অপসারণ করতে হবে ব্যবসায়ীদের। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই কাঠামো অপসারণ না করলে আইন অনুযায়ী কড়া আইনি ব্যবস্থা নেবে কেএমসি।
উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন গুনছেন ব্যবসায়ীরা
পুরসভার এই চরম নোটিশ হাতে পাওয়ার পর থেকেই শিয়ালদা ফ্লাইওভার সংলগ্ন এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ওই স্থানে ব্যবসা করে নিজেদের সংসার চালাচ্ছেন। আচমকা এই সাত দিনের নোটিশে কোথায় গিয়ে তাঁরা নতুন করে ব্যবসা শুরু করবেন বা কীভাবে পেট চালাবেন, তা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না কেউই। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা হলে তাঁদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না বলেই জানাচ্ছেন অসহায় ব্যবসায়ীরা।
উচ্ছেদ অভিযান শুধু শিয়ালদায় সীমাবদ্ধ নয়
জবরদখল হঠানোর এই অভিযান কেবল শিয়ালদা স্টেশনের আশেপাশেই থেমে নেই। শহরের আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও প্রশাসনের নজর পড়েছে। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর এবং সন্তোষপুরের সংযোগকারী সুকান্ত সেতুর নীচের বাজারেও একই ধরনের উচ্ছেদ নোটিশ পাঠানো হয়েছে ব্যবসায়ীদের। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই বাজার না সরানো হলে সেখানেও যে পুরসভার কড়া পদক্ষেপ দেখা যাবে, তা বলাই বাহুল্য।
রেলওয়ে স্টেশনে স্টেশনে চলছে বুলডোজার অভিযান
রাজ্য সরকারের পাশাপাশি নিজেদের জমি পুনরুদ্ধারে অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে ভারতীয় রেলও। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রেলের জমিতে গজিয়ে ওঠা বেআইনি দখলদারি সরাতে ময়দানে নেমেছে রেল কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই শিয়ালদা, দমদম, পার্কসার্কাস এবং যাদবপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলের বুলডোজার চলেছে এবং একাধিক অবৈধ দোকানপাট তুলে দেওয়া হয়েছে। আরও বেশ কিছু এলাকার দখলদারদের ইতিমধ্যেই নোটিশ ধরানো হয়েছে। আগামী দিনে সেইসব এলাকাতেও যে বড়সড় বুলডোজার অভিযান দেখা যাবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।



