দলবদলের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে সাংসদ তথা অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Rachna Banerjee) । কখনও তাঁকে ‘গদ্দার’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে, আবার কখনও ব্যক্তিগত মন্তব্যও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের আবহেই এবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষা ও আচরণ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন রচনা। একইসঙ্গে তাঁর আক্রমণের নিশানায় এলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও।
একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রথমেই মহুয়া মৈত্রকে উদ্দেশ্য করে রচনা বলেন, “হাওয়ার্ড থেকে পড়াশোনা করে আসা একজন সাংসদের মুখের ভাষা যদি এমন হয়, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁকে কেন সংসদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, সেটাও মানুষ জানে।(Rachna Banerjee) তাই নিজেকে ধোয়া তুলসী পাতা হিসেবে তুলে ধরার কোনও সুযোগ নেই।”
এরপরই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে রচনা(Rachna Banerjee) আরও তীব্র সুরে বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একজন সিনিয়র সাংসদ। সংসদের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সদস্য হয়ে তিনি যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করছেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে মানুষ এমন আচরণ আশা করে না।”
রচনার অভিযোগ, সংসদের ভিতরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যে শব্দ ব্যবহার করেছেন, তা অত্যন্ত অশালীন। তাঁর দাবি, ওই ধরনের শব্দ উত্তর কলকাতার যৌনপল্লীতে ব্যবহৃত হয়। এমন ভাষা সংসদের মতো সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে উচ্চস্বরে ব্যবহার করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রচনার কথায়, “সংসদে বিতর্ক হবে, মতপার্থক্য থাকবে, রাজনৈতিক আক্রমণও হবে। কিন্তু তারও একটি শালীনতা ও সীমারেখা থাকা উচিত।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে রচনা কার্যত সংসদে রাজনৈতিক ভাষার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীন শব্দচয়নের বদলে যুক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বিতর্ক হওয়াই কাম্য। জনপ্রতিনিধিদের আচরণ সাধারণ মানুষের কাছেও একটি বার্তা পৌঁছে দেয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন


