তামান্না মামলায় FIR-এ থাকা অধিকাংশই গ্রেফতার, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গের কালীগঞ্জে ঘটে যাওয়া তামান্না হত্যাকাণ্ডে (Tamanna Murder Case) পুলিশের তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। ভিনরাজ্যে চালানো ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে আরও বারো জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে…

tamanna-case-most-people-named-in-fir-now-in-custody-confirms-chief-minister

পশ্চিমবঙ্গের কালীগঞ্জে ঘটে যাওয়া তামান্না হত্যাকাণ্ডে (Tamanna Murder Case) পুলিশের তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। ভিনরাজ্যে চালানো ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে আরও বারো জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। এই ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরদার হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। (Suvendu Adhikari)

সূত্রের খবর, ঘটনার পর থেকেই রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) একাধিক দিক থেকে অনুসন্ধান শুরু করে। প্রথমে স্থানীয় স্তরে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়ানো হয়। এরপর ধীরে ধীরে অভিযুক্তদের অবস্থান চিহ্নিত করে ভিনরাজ্যে অভিযান চালানো হয়। গুরুগ্রাম ও নাগপুরসহ বিভিন্ন শহরে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর একযোগে অভিযান চালিয়ে এই ১২ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। পুলিশের দাবি, এই গ্রেফতারির ফলে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জিয়ারুল শেখ, সাবির শেখ, ফকর শেখ ওরফে ইসমাইল শেখ, হাফিজুল শেখ, মিনারুল শেখ, আনিসুর শেখ, মিলন শেখ, রাজাবুল শেখ, জাকাত শেখ, সাহিবুল শেখ, আমিরুল শেখ এবং রকিবুল শেখ। এদের প্রত্যেককেই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং ঘটনার দিন কী ঘটেছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

   

এই মামলায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তামান্নার পরিবারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি আরও জানান, FIR-এ নাম থাকা প্রায় সকল মূল অভিযুক্তকেই ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা তদন্তের ক্ষেত্রে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী তামান্নার শোকাহত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সেই সাক্ষাতের পরই প্রশাসনিক স্তরে তদন্ত আরও গতি পায় বলে জানা গেছে। পুলিশের বিশেষ দলকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। তদন্তকারীদের মতে, এই মামলায় একাধিক স্তরে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন ঘটনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কিছুজনকে সহায়তা ও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ফলে পুরো চক্রটিকে ধরতে আরও বিস্তৃত তদন্ত চালানো হচ্ছে।

পুলিশি অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা এবং সম্ভাব্য পালানোর রুটগুলোতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী দলের ধারণা, আরও কিছু অভিযুক্ত এখনও পলাতক থাকতে পারে, যাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।