বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: শুরুর ম্যাচে কিছুটা ধাক্কা খেলেও ধীরে ধীরে বিশ্বকাপে (FIFA World Cup) নিজেদের ছন্দ ফিরে পেয়েছে স্পেন। সৌদি আরবকে বড় ব্যবধানে হারানোর পর এবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে উরুগুয়েকে ১-০ গোলে পরাজিত করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই রাউন্ড অফ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। অন্যদিকে, সৌদি আরবের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেই ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়ে নকআউটে পৌঁছে গেল আফ্রিকার দেশটি। ফলে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়েই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হল দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে।
গ্রুপের শেষ রাউন্ডের আগে সমীকরণ ছিল বেশ জটিল। চারটি দলেরই সুযোগ ছিল পরবর্তী পর্বে ওঠার। স্পেন অবশ্য নিজেদের কাজটা নিখুঁতভাবে সেরে নেয়। যদিও ম্যাচের শুরুতে তাদের খেলায় সেই চেনা গতি বা ধার দেখা যায়নি। লামিনে ইয়ামালকে প্রথম একাদশে রাখা হলেও তরুণ তারকা নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ছিলেন না। মাঝমাঠেও একাধিক ভুল পাস করে স্পেন, যার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল উরুগুয়ে।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে উরুগুয়ের গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার বড় ভুলে। ডান প্রান্ত থেকে অ্যালেক্স বায়েনার নেওয়া একটি সহজ শট তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন অভিজ্ঞ গোলকিপার। তাঁর হাত ফসকে বল ধীরে ধীরে জালে ঢুকে যায়। সেই ভুলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
বিরতির পরপরই গোলকিপার বদল করেন উরুগুয়ে কোচ মার্সেলো বিয়েলসা। কিন্তু এরপর তাঁর কৌশল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দল যখন গোলের জন্য মরিয়া, তখন মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা ফেদেরিকো ভালভের্দেকে তুলে একজন ডিফেন্ডার নামানো অনেককেই অবাক করে। অন্যদিকে স্পেনও কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করে। বিশেষ করে বদলি ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।
শেষ দশ মিনিটে উরুগুয়ে সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণে ঝাঁপায়। কিন্তু স্পেনের রক্ষণ এবং গোলরক্ষক উনাই সিমন দুর্দান্ত দৃঢ়তা দেখান। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে তিনি দলকে এগিয়ে রাখেন। উরুগুয়ের আক্রমণে আবেগ থাকলেও পরিকল্পনা ও ধার ছিল না। ম্যাচের শেষদিকে হতাশা থেকে আগুস্তিন কানাবিও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। স্পেনের ফুটবলারদের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডাও পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে। তবে তাতে ম্যাচের ফল আর বদলায়নি।
অন্য ম্যাচে কেপ ভার্দে ও সৌদি আরব গোলশূন্য ড্র করে। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা তিনটি দুর্দান্ত সেভ করে দলের নায়ক হয়ে ওঠেন। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই তাঁর অসাধারণ গোলকিপিং কেপ ভার্দের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ। ম্যাচ শেষে দর্শকরাও দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান তাঁকে এবং গোটা দলকে।
তিন ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়েও গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে থেকে নকআউটে উঠে ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। ২০১০ সালের পর এই প্রথম কোনও দেশ বিশ্বকাপে অভিষেকেই নকআউট পর্বে পৌঁছল। অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হল উরুগুয়েকে। আর স্পেন জানিয়ে দিল, শুরুটা যতই কঠিন হোক, বড় মঞ্চে তারা এখনও অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার।



