কলকাতা: অযোধ্যার রাম মন্দির নিয়ে দান-দক্ষিণার কেলেঙ্কারির অভিযোগে দেশজুড়ে বিতর্ক (Saugata Roy)। এই আবহেই এই কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, এই ঘটনা বিজেপি সরকারের বড় ব্যর্থতা। আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেলেও, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) ভাইস প্রেসিডেন্ট চম্পত রাইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকেও ব্যর্থ বলে উল্লেখ করেছেন।
সৌগত রায়ের দাবি, চম্পত রাইকেও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।সৌগত রায় বলেন, “রাম মন্দিরের দানের টাকা নিয়ে যে কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে, তা বিজেপি সরকারের জন্য লজ্জাজনক। আটজন গ্রেফতার হয়েছে, কিন্তু প্রশ্ন উঠছে চম্পত রাইয়ের আচরণ নিয়ে। তাঁকেও তদন্ত করা দরকার। এটা বিজেপি সরকারের বড় ব্যর্থতা।
আরও দেখুনঃ বড় টাকার ক্ষতি! দীর্ঘ এক বছর পর ব্যাঙ্ক জালিয়াতি কাণ্ডে ‘সুবিচার’ পেলেন কল্যাণ
অনেকেই বলছেন, এই ব্যক্তিদের বদলে ভিএইচপি বা অনুরূপ সংগঠনের কর্মকর্তাদের রাম মন্দিরের দায়িত্বে রাখা উচিত।” তিনি আরও যোগ করেন, যোগী আদিত্যনাথের সরকার বলছে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু প্রশ্ন হল এতদিন যোগী কেন খেয়াল করেননি? এটা তো তাঁরই দায়িত্ব ছিল।
এই ঘটনা বিজেপির ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টারই প্রমাণ বলে মনে করছেন সৌগত রায়।লাভ জিহাদ প্রসঙ্গে সৌগত রায়ের অবস্থান আরও স্পষ্ট। তিনি একে বিজেপি ও ভিএইচপির ‘সাম্প্রদায়িক স্লোগান’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, “এগুলো শুধুমাত্র হিন্দু-মুসলিম বিভেদ তৈরির রাজনীতি। আলাদা করে কোনো আইনের দরকার নেই। বিদ্যমান বিবাহ আইনই যথেষ্ট।
এই ধরনের প্রচার শুধু সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে।” তাঁর মতে, এই ইস্যুকে উস্কে দিয়ে বিজেপি রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে, যা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের পক্ষে ক্ষতিকর।ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) নিয়েও তৃণমূলের এই নেতা সরাসরি বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা ইউসিসির সম্পূর্ণ বিরোধী। মুসলিম সম্প্রদায়ের আলাদা ব্যক্তিগত আইন যেমন আছে, তা বজায় রাখা উচিত।”
সৌগত রায়ের যুক্তি, ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা মাথায় রেখে আলাদা ব্যক্তিগত আইনগুলোকে অটুট রাখতে হবে। ইউসিসি চাপিয়ে দিলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।রাজনৈতিক মহলে সৌগত রায়ের এই বক্তব্য তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিজেপি নেতারা ইতিমধ্যেই প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস সাম্প্রদায়িক ভোটব্যাঙ্ক রক্ষার জন্য এমন অবস্থান নিচ্ছে। বিজেপির এক নেতা বলেন, “রাম মন্দির নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সবাইকে তদন্তের আওতায় আনা উচিত, কিন্তু সৌগতবাবু শুধু বিজেপিকে টার্গেট করছেন। লাভ জিহাদ সত্যি ঘটনা, তা অস্বীকার করে লাভ নেই। আর ইউসিসি তো সংবিধানের নির্দেশ।”



