বড় টাকার ক্ষতি! দীর্ঘ এক বছর পর ব্যাঙ্ক জালিয়াতি কাণ্ডে ‘সুবিচার’ পেলেন কল্যাণ

কলকাতা: সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়েছিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তাঁর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে নিমেষে উধাও হয়ে গিয়েছিল ৫৬ লক্ষ টাকা! চাঞ্চল্যকর…

Kalyan Banerjee Cyber Fraud Case

কলকাতা: সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়েছিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তাঁর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে নিমেষে উধাও হয়ে গিয়েছিল ৫৬ লক্ষ টাকা! চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার প্রায় এক বছর পর অবশেষে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখার জালে ধরা পড়ল অভিযুক্ত।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের নাম মোকুলেশর রেজা। অসমের রাঙাপানি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছেন তদন্তকারীরা। আজই ধৃতকে আদালতে পেশ করা হবে। (Kalyan Banerjee Cyber Fraud Case)

   

কীভাবে ঘটেছিল এই হাই-প্রোফাইল জালিয়াতি?

চাঞ্চল্যকর এই জালিয়াতির ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে। তৃণমূল সাংসদের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের হাইকোর্ট শাখা থেকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা হাতানো হয়েছিল।

 তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত মোকুলেশর রেজা একেবারে আইনজীবী সেজে ব্যাঙ্কে প্রবেশ করেছিল। জালিয়াতির প্রথম ধাপ হিসেবে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে লিঙ্ক করা রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরটি সে সুকৌশলে বদলে দেয়। এরপর অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেয় সে।

অ্যাকাউন্ট থেকে ৫৬ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়ার পর সেই টাকা দিয়ে বিপুল পরিমাণ সোনা কিনেছিল অভিযুক্ত। পুলিশ বর্তমানে সেই সোনাগুলি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

টাকা ফেরত পেয়েছিলেন সাংসদ, তুলেছিলেন প্রশ্ন

সাংসদ জালিয়াতির শিকার হওয়ার পর স্বভাবতই শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। তবে ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই, ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক খোয়া যাওয়া ৫৬ লক্ষ টাকা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে ফিরিয়ে দেয়।

টাকা ফেরত পাওয়ার পর স্বস্তি পেলেও, ব্যাঙ্কিং সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তিনি একজন জনপ্রতিনিধি বা সাংসদ বলেই হয়তো দ্রুত ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তাঁর টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই একই জালিয়াতি কোনও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘটলে তাঁদের কী অবস্থা হত, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার এই ফাঁকফোকরের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকেও কাঠগড়ায় তুলেছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।