কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। (Shubhankar Sarkar )তখন কংগ্রেস নেতা শুভঙ্কর সরকার স্পষ্ট বার্তা দিলেন। তিনি বলেছেন, রাজ্যে তাঁদের মাত্র দুজন বিধায়ক থাকলেও ইউসিসির বিরোধিতা করবেন তাঁরা। তবে শুধু বিরোধিতা নয়, এই আইন তৈরির আগে সমাজের প্রতিটি সম্প্রদায় ও অংশের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
শুভঙ্কর সরকার বলেন, “ভারত একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। এই বৈচিত্র্যকে সম্মান করতেই হবে। একটি একক আইন নীতিগতভাবে ভাল হতে পারে, কিন্তু তা বাস্তবায়নের জন্য সকলের সম্মতি ও সমর্থন প্রয়োজন। রাজনীতি সংখ্যার খেলা হলেও সুস্থ বিতর্ক ও আলোচনা ছাড়া কোনো বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়।”তাঁর এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন ধর্ম, সম্প্রদায় ও সংস্কৃতির মানুষ শত শত বছর ধরে পাশাপাশি বাস করছেন।
আরও দেখুনঃ পশ্চিমবঙ্গে আসছে নিজস্ব এনডিআরএফ রিজার্ভ ফোর্স! ঘোষণা দিলীপের
এখানে ব্যক্তিগত আইনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিজস্ব রীতিনীতি চলে আসছে। ইউসিসি চালু হলে বিবাহ, উত্তরাধিকার, বিবাহবিচ্ছেদসহ ব্যক্তিগত বিষয়ে একই আইন সকলের ওপর প্রযোজ্য হবে। কংগ্রেস নেতা মনে করেন, এমন একটি সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো সম্প্রদায়কে উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।শুভঙ্কর সরকার আরও বলেন, “আমাদের মাত্র দুজন বিধায়ক। তবু আমরা স্পষ্টভাবে বলছি এই আইনের আগে প্রতিটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, আদিবাসী সকলের মতামত নিতে হবে। না হলে এটা চাপিয়ে দেওয়ার মতো হয়ে যাবে।”রাজ্যের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কংগ্রেস এখন সংখ্যালঘু অবস্থানে থাকলেও এই ইস্যুতে সোচ্চার হয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে চাইছে। তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যে ইউসিসির বিরোধিতা করে এসেছে। বিজেপি অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে এই আইনের পক্ষে সওয়াল করে আসছে।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের অবস্থান তাদের মধ্যপন্থী ইমেজ ধরে রাখার চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কলকাতার এক প্রবীণ আইনজীবী বলেন, “সমান অধিকার সবার জন্য ভালো। কিন্তু হঠাৎ করে সবকিছু বদলে দিলে সমাজে অশান্তি হতে পারে। আলোচনার মাধ্যমে এগোনো উচিত।”



