গেরুয়া রাজ্যে হাই-টেনশন তারে ঠেকল মহরমের তাজিয়া! বিস্ফোরণে নিহত রশিদ-আরবাজ

রতলাম, মধ্যপ্রদেশ: মহরমের শোকযাত্রায় তাজিয়া (Ratlam)বহন করতে গিয়ে ভয়ানক এক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত নয়জন। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের রতলাম জেলার হাতনারা গ্রামে।…

ratlam-muharram-tazia-high-voltage-line-accident-madhya-pradesh

রতলাম, মধ্যপ্রদেশ: মহরমের শোকযাত্রায় তাজিয়া (Ratlam)বহন করতে গিয়ে ভয়ানক এক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত নয়জন। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের রতলাম জেলার হাতনারা গ্রামে। নিহতরা হলেন রশিদ খান, সাদ্দু হুসেইন ও আরবাজ খান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

   

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহরমের শোকযাত্রায় বিশাল উচ্চতার একটি তাজিয়া নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। হঠাৎ সেই তাজিয়া উঁচু বিদ্যুতের ১১ কেভি হাই-টেনশন লাইনে ছুঁয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। আশপাশের আরও নয়জন গুরুতর আহত হন। চিৎকারে চারদিক ভরে যায়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, এই দুর্ঘটনা সম্পূর্ণ এড়ানো যেত।

আরও দেখুনঃ ‘৮১ নয় ৩০০ ফুটের রামের মূর্তি হোক!’ সংসদে বিস্ফোরক মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান

প্রশাসন আগে থেকেই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, তাজিয়ার উচ্চতা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে যাতে বিদ্যুতের তারে না লাগে। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে অনেক বড় ও উঁচু তাজিয়া তৈরি করা হয় এবং শোকযাত্রায় নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কবার্তা খোলাখুলিভাবে অমান্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।রতলাম জেলা প্রশাসন দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।

মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও সরকারি সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং কারা নির্দেশ অমান্য করেছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।এই ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। প্রতি বছর মহরম ও অন্যান্য ধর্মীয় শোভাযাত্রায় উচ্চতার কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা এবং তাজিয়া বা অন্যান্য স্ট্রাকচারের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরি। স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদেরও এই বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।হাতনারা গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা শোক পালন করতে বেরিয়েছিলাম, কিন্তু এভাবে তিনজন তরুণ প্রাণ হারাবে ভাবিনি। প্রশাসন যা বলেছিল তা মানলে হয়তো এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।”

নিহত রশিদ খানের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। এখন সংসার অন্ধকারে ডুবে গেছে।মধ্যপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। একইসঙ্গে সব জেলায় ধর্মীয় শোভাযাত্রার সময় নিরাপত্তা নির্দেশিকা কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।