চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ ডি-র শেষ ম্যাচে চমক উপহার দিল তুরস্ক। (World Cup 2026)আগের দুই ম্যাচে পরাজিত হয়ে আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছিল তাদের। তবুও শেষ ম্যাচে দারুণ লড়াই করে শক্তিশালী আমেরিকাকে ৩-২ গোলে হারিয়ে মর্যাদার জয় তুলে নিল আরদা গুলারের দল। ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে কায়ান আইহানের করা গোলেই আসে এই রুদ্ধশ্বাস জয়। তবে এই সাফল্যও তুরস্ককে নকআউটে তুলতে পারেনি। অন্যদিকে, হার সত্ত্বেও গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেছে আমেরিকা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে নামে মার্কিন দল। তার ফলও পেয়ে যায় খুব দ্রুত। খেলা শুরুর মাত্র তিন মিনিটের মাথায় অস্টন ট্রাস্টির গোলে এগিয়ে যায় আমেরিকা। প্রথম দিকের এই গোল তুরস্ককে কিছুটা চাপে ফেললেও তারা দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নেয় এবং পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।
আরও দেখুনঃ ড্র করেও ইতিহাস ! এই বিশ্বকাপের প্রথম এশীয় দল হিসেবে নকআউটে জাপান
১০ মিনিটে তুরস্ক সমতায় ফেরে। দলের তরুণ তারকা আরদা গুলার দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরান। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি ছিল তাঁর প্রথম গোল, যা ব্যক্তিগতভাবে একটি বড় মাইলফলক। এই গোলের পর তুরস্কের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় এবং তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে।
প্রথমার্ধের ৩১ মিনিটে সেই প্রচেষ্টার ফলও মেলে। আলপের ইলমাজ দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে গোল করে তুরস্ককে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার সময় পর্যন্ত এই ব্যবধান বজায় থাকে এবং আমেরিকা কিছুটা চাপে পড়ে। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ম্যাচে ফের ঘুরে দাঁড়ায় আমেরিকা। ৪৯ মিনিটে সেবাস্তিয়ান বেরহাল্ট গোল করে স্কোরলাইন ২-২ করে দেন। এরপর ম্যাচ আরও জমে ওঠে। দুই দলই একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে এবং একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি হয়। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনও দলই গোল করতে পারছিল না। ফলে ম্যাচটি ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছে বলেই মনে হচ্ছিল।
কিন্তু ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজার আগে শেষ হয় না, সেটাই আবার প্রমাণ করল তুরস্ক। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ দিকে কায়ান আইহান প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করে জয়সূচক গোলটি করেন। তাঁর সেই গোলের পরই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে তুরস্ক শিবির। শেষ মুহূর্তের এই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে তারা। যদিও এই জয় তুরস্কের ভাগ্য বদলাতে পারেনি। প্রথম দুই ম্যাচে পরাজয়ের কারণে তারা আগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছিল।
তাই শেষ ম্যাচের সাফল্য কেবল সম্মান রক্ষার জয় হিসেবেই থেকে গেল। তবে আরদা গুলারের গোল এবং দলের লড়াকু মানসিকতা ভবিষ্যতের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক বার্তা দিল। অন্যদিকে, এই পরাজয় আমেরিকার নকআউটের রাস্তা আটকাতে পারেনি। গ্রুপ পর্বে আগের দুই ম্যাচ জিতে নেওয়ায় মোট ছয় পয়েন্ট নিয়ে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ ষোলোয় উঠেছে। এবার নকআউট পর্বে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কঠিন চ্যালেঞ্জ।



