পশ্চিমবঙ্গেও কি চালু হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code Bill) (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি)? এই প্রশ্ন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী সোমবার রাজ্যের বিধানসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করা হতে পারে, যা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত। সেই উদ্দেশ্যে বিশেষ অধিবেশনও ডাকা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এখনও এ বিষয়ে কোনও ঘোষণা করা হয়নি, তবুও রাজনৈতিক মহলে এই বিলকে ঘিরে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
দেশজুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা চলছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল ‘এক দেশ, এক আইন’ নীতি কার্যকর করা। বর্তমানে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং সম্পত্তি বণ্টনের মতো বিষয়গুলিতে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা আলাদা ব্যক্তিগত আইন কার্যকর রয়েছে। ইউসিসি চালু হলে সেই ভিন্নতা দূর করে সকল নাগরিকের জন্য একই ধরনের আইন প্রযোজ্য হবে।
এর আগে দেশের কয়েকটি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের মধ্যে উত্তরাখণ্ড প্রথম রাজ্য হিসেবে ইউসিসি কার্যকর করে। ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি সেখানে এই আইন কার্যকর হয়। উত্তরাখণ্ডের ইউসিসি-তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিধান রাখা হয়েছে। বহুগামিতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা যুগলদের জন্য রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্পত্তির ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি লিভ-ইন সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানদেরও আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডের পথ অনুসরণ করে গুজরাটেও ইউসিসি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অসমে চলতি বছরের মে মাসে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত বিল পাশ হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ধাপে ধাপে এই আইন কার্যকর করার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে যদি ইউসিসি বিল পেশ করা হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে একটি বড় রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষ করে রাজ্যের সামাজিক ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের কথা মাথায় রেখে এই বিল নিয়ে বিস্তর আলোচনা এবং বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। সমর্থকদের দাবি, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও আইনি সমতা নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের মতে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিজস্ব রীতি-নীতি ও ব্যক্তিগত আইনের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে।



