হরমুজ প্রণালীতে টোলের প্রশ্নে ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি, চাপে ইরান?

হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের উপর কোনও টোল বা অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা হবে না বলে ইরান আশ্বস্ত করেছে বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে ভুয়ো তথ্য হলে আলোচনা বন্ধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

trump-claims-no-toll-in-strait-of-hormuz-warns-on-false-information

ওয়াশিংটন: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait ) নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই বড় দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলির উপর কোনও টোল, অতিরিক্ত বিমা খরচ বা অন্য কোনও ধরনের চার্জ আরোপ করা হবে না।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “ভুয়ো সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের বিপরীতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলির কাছ থেকে কোনও টোল, বিমা খরচ বা অন্য কোনও ধরনের অর্থ নেওয়া হচ্ছে না।”

   

একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, যদি এই তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে চলমান আলোচনা অবিলম্বে বন্ধ হয়ে যাবে।

বিশ্বের সামুদ্রিক তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে এই পথ নিয়ে যেকোনও অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানকে নগদ অর্থ দেওয়ার অভিযোগও উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প

ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কোনও নগদ অর্থ দেয়নি বা তাদের জন্য কোনও তহবিল ছাড় করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের কিছু স্থগিত সম্পদ ব্যবহারের একটি বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তাঁর দাবি, ওই অর্থ শুধুমাত্র মার্কিন কৃষকদের কাছ থেকে ভুট্টা, গম এবং সয়াবিন কেনার জন্য ব্যবহার করা হবে, যা পরে ইরানের সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে পাঠানো হবে।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের কিছু অর্থ ব্যবহার করার অনুমতি দেব, কিন্তু সেই অর্থ পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং তা মার্কিন কৃষক ও পশুপালকদের কাছেই যাবে।”

Also Read | ১০,০০০ অনুপ্রবেশকারী পুশব্যাক! হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১৮০০ র হিসেবে শুভেন্দুর

কাতারের তত্ত্বাবধানে বিশেষ ব্যবস্থা

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর একটি বিশেষ আর্থিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কাতারও নজরদারির ভূমিকা পালন করবে, যাতে কোনও অর্থ সন্ত্রাসবাদে ব্যবহৃত না হয়।

ভ্যান্সের বক্তব্য, “আমরা এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে চেয়েছি, যাতে ভবিষ্যতে ইরানের সম্পদ মুক্ত করা হলেও সেই অর্থ সরাসরি সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয় এবং সন্ত্রাসে অর্থায়নের কাজে না লাগে।”

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার আবহে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।