কলকাতা: তারাতলার ব্রেসব্রিজ এলাকায় নির্মীয়মাণ গোডাউনের (Suvendu Adhikari)ছাদ ভেঙে পড়ার ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই তিনি নবান্ন থেকে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রেখেছিলেন। কিন্তু আহত শ্রমিকদের অবস্থা এবং উদ্ধারকাজের অগ্রগতি দেখতে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে চলে আসেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি উপস্থিতি উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।দুপুরের দিকে হঠাৎ ছাদ ধসে পড়ার ঘটনায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন। খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে একটি কন্ট্রোল রুম খুলে দেন এবং হেল্পলাইন নম্বর ১০৭০ চালু করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর নির্দেশ দেন।
আরও দেখুনঃ আমতা বোমা বিস্ফোরণ মামলায় NIA জালে আসফার-এন্তাজুল
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং উদ্ধারকাজ তদারকি শুরু করেন।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার খোঁজ নেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি শ্রমিকের জীবন আমাদের কাছে অমূল্য। উদ্ধারকাজে কোনোরকম অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না।”
তাঁর নির্দেশে পুলিশ, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম, এনডিআরএফ এবং সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দলও ঘটনাস্থলে কাজ করছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের বের করার চেষ্টা চলছে পুরোদমে।স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রীর আগমনে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন। এলাকায় এখনও উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। একের পর এক অ্যাম্বুল্যান্স আসছে এবং আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণের মান এবং কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থল থেকেই কড়া তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “দায়ীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনো নির্মাণকাজ চলতে দেওয়া হবে না।”
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহন এবং নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কয়েকজনকে উদ্ধার করা গেছে, তবে আটকে পড়া শ্রমিকদের সংখ্যা নিয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ চলছে। এনডিআরএফ-এর সদস্যরা সাবধানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে কাজ করছেন। রাত পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চলবে বলে জানানো হয়েছে।



