FIFA World Cup: হালান্ডের জোড়া গোলে সেনেগাল বধ, নকআউটে নরওয়ে

আর্লিং হালান্ডের দুরন্ত জোড়া গোলে সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল নরওয়ে। নতুন রেকর্ডও গড়লেন তারকা স্ট্রাইকার।

haaland-double-fires-norway-past-senegal

বিট্টু দত্ত, কলকাতা ডেস্ক: বিশ্বকাপের মঞ্চে (FIFA World Cup) তারকাদের দাপট চলছেই। লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপের পর এবার নিজের ছাপ আরও গাঢ় করলেন আর্লিং হালান্ড। সেনেগালের বিরুদ্ধে দুরন্ত জোড়া গোল করে নরওয়েকে ৩-২ ব্যবধানে জিতিয়ে রাউন্ড অফ ৩২-এ পৌঁছে দিলেন তিনি। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘ই’-র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হালান্ডের অসাধারণ পারফরম্যান্সই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় নরওয়েকে। মাঝমাঠে মার্টিন ওডেগার্ডের নেতৃত্বে বলের দখল নিজেদের কাছে রাখার চেষ্টা করে তারা। প্রথমার্ধের শেষদিকে সেই চাপেরই ফল মেলে। ৪৩ মিনিটে সেনেগালের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নরওয়েকে এগিয়ে দেন সাইড ব্যাক মার্কাস হোমগ্রিন পেডেরসন। সেনেগাল অধিনায়ক কালিদু কুলেবালির একটি দুর্বল ক্লিয়ারেন্স সরাসরি পৌঁছে যায় পেডেরসনের কাছে, আর তিনি তা জালে জড়িয়ে দেন।

   

প্রথমার্ধে এক গোলে এগিয়ে থাকলেও নরওয়ের আসল ঝড় শুরু হয় বিরতির পর। ৫০ মিনিটে ওডেগার্ডের নিখুঁত পাস থেকে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন হালান্ড। গোলের সময় তার অবস্থান, গতি এবং ফিনিশিং দক্ষতা আবারও প্রমাণ করে কেন তিনি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার।
তবে সেনেগাল দ্রুত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। ৫৫ মিনিটে ইসমাইলা সার একটি সুন্দর আক্রমণ থেকে গোল করে ব্যবধান কমান। কিন্তু তাদের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন মিনিট পর আবারও আঘাত হানেন হালান্ড। ডান পায়ের দুরন্ত ভলিতে তিনি নরওয়ের তৃতীয় গোলটি করেন এবং নিজের জোড়া গোলও পূর্ণ করেন।

হালান্ড এদিন হ্যাটট্রিকও করতে পারতেন। সেনেগালের গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডির একটি ভুলের সুযোগ পেয়ে তিনি শট নেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বল বার পোস্টে লেগে ফিরে আসে। যদিও মেন্ডি পরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে বড় ব্যবধানে হারার হাত থেকে বাঁচান।

ম্যাচের শেষদিকে সেনেগাল মরিয়া হয়ে ওঠে। সংযুক্তি সময়ে আবারও গোল করেন ইসমাইলা সার। তাতে ব্যবধান কমলেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ফলাফল বদলানো সম্ভব হয়নি। এই হারের ফলে সেনেগালের নকআউটে ওঠার লড়াই কঠিন হয়ে গেল। শেষ ম্যাচে ইরাকের বিরুদ্ধে জিততেই হবে সাদিও মানেদের।

অন্যদিকে নরওয়ের জন্য এই জয় ছিল ঐতিহাসিক। টানা দুই ম্যাচে জোড়া গোল করে হালান্ড এখন বিশ্বকাপে নরওয়ের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। মাত্র দুই ম্যাচে চার গোল করে তিনি নতুন নজির গড়েছেন। জাতীয় দলের জার্সিতে ৫২ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা পৌঁছে গেল ৫৯-এ, যা তার অসাধারণ ধারাবাহিকতার প্রমাণ।

ম্যাচ শেষের পর উৎসবে মেতে ওঠে নরওয়ে শিবির। বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ‘ভাইকিং বোট’ বা নৌকা সেলিব্রেশন দেখা যায় মেটলাইফ স্টেডিয়ামেও। লাল জার্সি পরা সমর্থকেরা গ্যালারিতে বসে নৌকা বাইবার ভঙ্গিতে উদ্‌যাপন করেন। সেই আনন্দে সামিল হন ফুটবলাররাও। হালান্ড, ওডেগার্ডদের নেতৃত্বে মাঠে ড্রাম বাজিয়ে শুরু হয় বিশেষ উদ্‌যাপন, আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গলা মেলান হাজার হাজার সমর্থক। নকআউট নিশ্চিত করার আনন্দে যেন গোটা স্টেডিয়ামই পরিণত হয়েছিল এক বিশাল ভাইকিং উৎসবে।