স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানকে ঘিরে চলমান বিতর্ক এবার আরও জটিল মোড় নিয়েছে তাঁর স্ত্রী রেজিনা বিবি (Sarika bibi) ওরফে সারিকার গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি ও বিষ্ণুপুর থানার সীমানা সংলগ্ন জুলপিয়া এলাকা থেকে শনিবার ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ, স্বামীকে আটক করার সময় তিনি পুলিশকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে , বেশ কিছুদিন ধরেই রেজিনা গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন। তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পরই অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় তাঁকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে শনাক্ত করা হয় এবং সেখান থেকেই আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, তিনি গাড়িতে করে এলাকা ছেড়ে পালানোর পরিকল্পনা করছিলেন। তবে তার আগেই পুলিশ তাঁকে ধরে ফেলে। (Sarika bibi) গ্রেফতারের পর নিরাপত্তার স্বার্থে প্রথমে রেজিনাকে উস্তি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ডায়মন্ড হারবার এসিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে পেশ করার সময় পরিস্থিতি আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে।
শুনানির সময় বিচারক আরিফ আহমেদ জানতে চান, তাঁর পক্ষে কোনও আইনজীবী রয়েছেন কি না। কিন্তু রেজিনা জানান, তাঁর হয়ে কোনও আইনজীবী উপস্থিত নেই। এই অবস্থায় আদালতে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত সরকারি লিগ্যাল এইডের একজন আইনজীবী তাঁর পক্ষে সওয়াল করেন। তবে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে আদালত তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
আইনজীবী না থাকার বিষয়টি মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সামনে এসেছে। সাধারণত গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনি সহায়তা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। ফলে আদালতে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিরক্ষার দিকটি দুর্বল হয়ে পড়ে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, রেজিনা বিবির (Sarika bibi) বিরুদ্ধে তদন্তের স্বার্থে হেফাজত অত্যন্ত জরুরি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জাহাঙ্গির খানের কর্মকাণ্ড, সম্ভাব্য সহযোগী এবং পলায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশের ধারণা, এই মামলার পেছনে একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্ক থাকতে পারে, যা ধীরে ধীরে সামনে আসতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গির খান ও তাঁর স্ত্রী রেজিনা বিবিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের বিতর্ক ও অভিযোগ চলছিল। ‘স্বঘোষিত পুষ্পা’ পরিচয়ে জাহাঙ্গিরের কর্মকাণ্ড এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তাঁর গ্রেফতারের পর থেকেই পুলিশের নজর ছিল তাঁর পরিবারের ওপর। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতাতেই রেজিনার ওপর এই অভিযান চালানো হয়।



