সংকটের মাঝেও কৌশল বদল, আদালতের পথে কালীঘাটের তৃণমূল

তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) ফান্ড ঘিরে টানাপোড়েন এই মুহূর্তে চরমে পৌঁছেছে বলে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে থাকা…

after-firhad-hakims-exit-bengal-politics-heat-up-mamata-summons-councillors-for-emergency-meet

তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) ফান্ড ঘিরে টানাপোড়েন এই মুহূর্তে চরমে পৌঁছেছে বলে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে থাকা তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় শাসকদলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত কয়েকদিনে একাধিক প্রশাসনিক ও দলীয় সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। জানা যাচ্ছে, গত ১২ জুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার বিষয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন দলের কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। তবে রাজনৈতিক মহলের দাবি, (TMC) তার আগেই ৫ জুন দলীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে যায়। ওই দিনই তাঁকে কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে সরিয়ে শুভাশিস চক্রবর্তীকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই আকস্মিক পরিবর্তনকে কেন্দ্র করেই দলের ভিতরে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয় বলে খবর।

   

এরপরই অরূপ বিশ্বাসকে এই বিষয়ে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়। দলীয় শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি। যদিও অরূপ বিশ্বাসের পক্ষ থেকে শোকজের জবাব পাঠানো হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সূত্রের দাবি, তাঁর লেখা চিঠির ভাষা ছিল অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থানমূলক, যা অনেকেই ‘অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি দলের ফান্ডের উৎস এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গত শুক্রবার তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের আর্থিক লেনদেন এবং তহবিল পরিচালনা নিয়ে বেশ কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে, যা জনসমক্ষে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। তাঁর এই মন্তব্যের পরই পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নেয় বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত।

এর মধ্যেই জয়নগরের এক বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার ঘটনা ঘটে। যদিও এই সিদ্ধান্তের পেছনে সুনির্দিষ্ট আইনি বা প্রশাসনিক কারণ নিয়ে এখনো স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি, তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে সূত্রের দাবি।