কলকাতা: বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজেপি সরকার প্রথম যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে (Illegal Infiltration)তা হল অনুপ্রবেশ আটকান। সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ চলছে জোরকদমে। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি চিন্তায় সীমান্তবর্তী দালাল চক্র।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পতন এবং স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর কঠোর প্রয়োগে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের বার্ষিক ৯০০ কোটি টাকার ব্যবসা প্রায় পুরোপুরি থেমে গেছে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা এই দালাল চক্র নতুন বিজেপি সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতির কারণে ভেঙে পড়েছে। সীমান্তে হাজার হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ফিরে যাচ্ছেন বাংলাদেশে, আর যারা দালাল ছিলেন তাঁরা এখন কার্যত বেকার।
সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে গত দু’দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১,০০০টি ঐতিহ্যবাহী ক্রসিং পয়েন্ট দিয়ে প্রতি মাসে ৭০-৮০ কোটি টাকার ব্যবসা চলত। বছরে যা দাঁড়াত ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকায়। একজন বাংলাদেশি যুবককে ভারতে ঢোকানোর জন্য দালালদের নেটওয়ার্কে ৫০ হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত চার্জ করা হতো। টাকার বিনিময়ে জোগানো হতো ভুয়া আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড এবং স্থানীয় ঠিকানা।
কীভাবে চলত এই অনুপ্রবেশ? দালালদের বর্ণনা অনুসারে, প্রথমে বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে ‘হ্যান্ডলার’রা লোক জড়ো করতেন। তারপর রাতের অন্ধকারে নদী, খাল বা ফাঁকা জায়গা দিয়ে পার করিয়ে আনা হতো। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের কিছু অসাধু সদস্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের কিছু লোকের সঙ্গে অবৈধ বোঝাপড়া থাকায় অনেক সময় সহজেই ঢুকে পড়া যেত। ভারতে ঢোকার পর স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে কাজের ব্যবস্থা, আশ্রয় এবং নথিপত্র তৈরি হয়ে যেত।
অনেকে ঝাড়গ্রাম, মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেন। কেউ কেউ সুইপারের কাজ, নির্মাণ শ্রমিক বা অন্যান্য অসংগঠিত ক্ষেত্রে যোগ দিতেন।এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত ছিলেন স্থানীয় দালাল, বাংলাদেশের কিছু এজেন্ট এবং রাজনৈতিক আশ্রয়। কিন্তু নির্বাচনের পর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই ছবি পালটে গেছে।
স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লক্ষ সন্দেহজনক এন্ট্রি বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। ধরা পড়লেই সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে এবং ডিপোর্টের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।ফলে হাকিমপুর, বিথারি সহ বিভিন্ন সীমান্ত চেকপোস্টে এখন দীর্ঘ লাইন। শত শত বাংলাদেশি নাগরিক স্বেচ্ছায় ফিরে যাচ্ছেন।
যাঁরা দালালি করতেন, তাঁদের ব্যবসা একেবারে বন্ধ। অনেক দালাল এখন পুলিশের ভয়ে লুকিয়ে আছেন। নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বলেছেন, “কাগজপত্রহীন কেউ পশ্চিমবঙ্গে থাকতে পারবেন না।” এই কঠোর অবস্থানের কারণে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ফিরছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।



