কাঁচরাপাড়ার সেই স্কুলে ফের টাকার হদিস! মধ্যরাতের অভিযানে উদ্ধার আরও ৮ লক্ষ

কাঁচরাপাড়া: আবারও উদ্ধার কারি কারি টাকা! কাঁচরাপাড়ার যে বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে প্রথম দফায় ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছিল, সেখান থেকেই আরও…

কাঁচরাপাড়া: আবারও উদ্ধার কারি কারি টাকা! কাঁচরাপাড়ার যে বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে প্রথম দফায় ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছিল, সেখান থেকেই আরও ৮ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ। সব মিলিয়ে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। (Kanchrapara School Cash Seizure)

মধ্যরাতের অভিযান ও ধৃতদের জেরা

গত ১০ জুন রাতে প্রথম কাঁচরাপাড়ার ওই স্কুলে হানা দিয়েছিল বীজপুর থানার পুলিশ। বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় স্কুলের অ্যাকাউন্ট্যান্ট অভীক নাগ এবং জুনিয়র অ্যাকাউন্ট্যান্ট সায়ন পালকে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই দু’জনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করেই নতুন তথ্যের হদিস পান তদন্তকারীরা। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই গত ১৫ জুন গভীর রাতে ধৃতদের সঙ্গে নিয়ে ফের ওই স্কুলে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। আর সেই দ্বিতীয় দফার অভিযানেই উদ্ধার হয় আরও ৮ লক্ষ টাকা। স্কুলের আনাচে-কানাচে আরও ‘কালো টাকা’ লুকানো আছে কি না, তা জানতে ধৃতদের লাগাতার জেরা করা হচ্ছে।

   

কালো টাকার কারবার? নিশানায় প্রাক্তন বিধায়ক

স্কুল থেকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাসের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া এই টাকা আসলে বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুবোধ অধিকারী এবং তাঁর ভাই তথা কাঁচরাপাড়ার চেয়ারম্যান কমল অধিকারীর ‘কালো টাকা’।

সুদীপ্ত দাসের দাবি, ২০২২ সালে চিটফান্ড মামলায় সিবিআই বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পর থেকেই নিজেদের কালো টাকা লুকানোর নিরাপদ জায়গা খুঁজছিলেন তাঁরা। বিধায়কের কথায়, “শুধু একটা স্কুলে নয়, আমার ধারণা ওরা আরও অনেক জায়গায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে টাকা রেখেছে। যে জায়গা ওরা নিরাপদ মনে করেছে, যেখানে কারও নজর পড়বে না, সেখানেই টাকা রাখা হয়েছে। না হলে স্কুলে এত টাকা থাকতে পারে না।”

বেপাত্তা দুই নেতা

বিধায়কের আরও দাবি, এফআইআরে নাম থাকা কমল এবং সুবোধ অধিকারীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও কালো টাকার হদিস মিলবে। এদিকে, পুলিশ সূত্রে খবর, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই সুবোধ ও কমল অধিকারী কার্যত ‘পলাতক’। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও এখনও পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।