কেনের জোড়া গোলে ক্রোয়েশিয়াকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু ইংল্যান্ডের

হ্যারি কেনের দুরন্ত জোড়া গোল, সঙ্গে বেলিংহ্যাম ও রাশফোর্ডের সাফল্য। ছয় গোলের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ হারাল ইংল্যান্ড।

england-beat-croatia-4-2-harry-kane-brace-fifa-world-cup

বিট্টু দত্ত, কলকাতা: বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) মঞ্চে তারকাদের ঝলক অব্যাহত। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিক, কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোল কিংবা এর্লিং হ্যালান্ডের ধারাবাহিক সাফল্যের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে দুরন্ত জোড়া গোল করে তিনি শুধু দলকে জয়ই এনে দিলেন না, প্রমাণ করলেন কেন এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে তাঁকে বিবেচনা করা হয়।

ডালাসে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের এখনও পর্যন্ত অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ছয় গোলের রোমাঞ্চে ভরা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানে জয় পায় ইংল্যান্ড। শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো।

   

ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই নাটকীয় ঘটনা। নোনি মাদুয়েকেকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। প্রথমবার কেনের শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ডোমিনিক লিভাকোভিচ। কিন্তু ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, শট নেওয়ার আগেই তিনি গোললাইন ছেড়ে এগিয়ে এসেছিলেন। ফলে পুনরায় পেনাল্টি নেওয়ার সুযোগ পান কেন। দ্বিতীয়বার আর ভুল করেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়।

প্রথম গোল হজম করেও দমে যায়নি ক্রোয়েশিয়া। ৩৬ মিনিটে মার্তিন বাতুরিনা দূরপাল্লার দুরন্ত শটে সমতা ফেরান। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পাঁচ মিনিট পর ডেক্লান রাইসের কর্নার থেকে অসাধারণ হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কেন। আবারও এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

কিন্তু প্রথমার্ধের নাটক তখনও শেষ হয়নি। ৪৫ মিনিটের আগেই ইভান পেরিসিচের নিখুঁত পাস থেকে গোল করে স্কোরলাইন ২-২ করেন পেতার মুসা। ফলে বিরতিতে যাওয়ার সময় দুই দলই সমান অবস্থানে ছিল।

দ্বিতীয়ার্ধে ছবিটা পুরো বদলে যায়। টমাস টুখেলের দল আরও আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত পাসিং এবং ধারালো আক্রমণে ক্রোয়েশিয়াকে ক্রমশ চাপে ফেলে ইংল্যান্ড। বিরতির মাত্র দুই মিনিট পর জুড বেলিংহ্যাম গোল করে দলকে আবার এগিয়ে দেন।

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রেখে খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়া কিছু সুযোগ তৈরি করলেও ইংরেজ রক্ষণ তা সফলভাবে সামলে দেয়। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা মার্কাস রাশফোর্ড চতুর্থ গোলটি করে জয়ের সিলমোহর দেন।

এই ম্যাচে জোড়া গোল করার ফলে বিশ্বকাপে হ্যারি কেনের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১০। এর মাধ্যমে তিনি ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকারের বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করলেন।

সব মিলিয়ে ডালাসের এই রাত ইংল্যান্ড সমর্থকদের জন্য ছিল স্বপ্নের মতো। আক্রমণাত্মক ফুটবল, তারকাদের পারফরম্যান্স এবং বড় ব্যবধানে জয়—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের বাকি পথচলার জন্য বড় বার্তা দিয়ে রাখল ইংল্যান্ড।