অধিবেশন চলাকালীন শুভেন্দুর ঘরে তৃণমূল নেতাদের বৈঠক, হাজির কুণাল-মদন-শোভনদেবরা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অপ্রত্যাশিত সমীকরণ তৈরি হয়েছে। পালাবদলের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল ও বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে…

Mamata Camp MLAs Spark Buzz After Meeting Suvendu Adhikari at Assembly Premises

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অপ্রত্যাশিত সমীকরণ তৈরি হয়েছে। পালাবদলের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল ও বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সম্পর্ক যেমন অনেক ক্ষেত্রেই তীব্র সংঘাতপূর্ণ, তেমনই আবার কিছু ঘটনায় সৌজন্য ও আলোচনার চিত্রও ধরা পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিধানসভার চলতি অধিবেশনের প্রথম দিনেই ঘটে গেল এক ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক ঘটনা, যা ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা।

অধিবেশন শুরুর দিন রাজ্যপালের ভাষণ শেষে বিধানসভা চত্বরে এক ভিন্ন ধরনের দৃশ্য দেখা যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত পাঁচজন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব এবং রহিম বক্সী হঠাৎ করেই পৌঁছে যান মুথ‌্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে। এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে চমক সৃষ্টি করে, কারণ সাধারণত শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে এমন সরাসরি ও সমন্বিত বৈঠক বিরল।

   

সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই বৈঠকটি ছিল সম্পূর্ণ সৌজন্য ও প্রশাসনিক বিষয়ক আলোচনা কেন্দ্রিক। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পারস্পরিক মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যেই এই সাক্ষাৎ বলে জানা গেছে। যদিও এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ভিন্ন ভিন্নভাবে সামনে আসতে শুরু করেছে।

আরও জানা যায়, এই ঘটনার আগের দিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। মমতার প্রাক্ন ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কিছু পিএসও-কে প্রত্যাহার করা হয়, যা নিয়ে শাসক শিবিরের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষ নিজ উদ্যোগে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানান। তিনি জানান, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন,প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে যেন মানবিক ও সৌজন্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা হয়।

সূত্র আরও জানায়, কুণালের এই অনুরোধের পর মুখ্যমন্ত্রীর দিক থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মেলে। সেই সূত্র ধরেই বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের মধ্যে একটি বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়, যেখানে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান খোঁজার চেষ্টা হয়।