ফলতা মঙ্গলবার থেকেই চরম উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি হঠাৎ করেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে জাহাঙ্গির খানকে থানার হেফাজত থেকে মুক্ত করার দাবিকে ঘিরে। অভিযোগ, ওইদিন একদল উত্তেজিত মানুষ থানায় চড়াও হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন জাহাঙ্গিরের স্ত্রী, এমনই দাবি প্রশাসনিক সূত্রের। (Suvendu Adhikari)
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, দুপুরের পর থেকেই থানার সামনে ভিড় জমতে শুরু করে। প্রথমে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা সহিংস রূপ নেয়। থানার গেট ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে থাকে বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু উত্তেজনা এতটাই বেড়ে যায় যে বাহিনীর তৎপরতায় বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। অভিযোগ, পালানোর সময় অনেকেই আতঙ্কে পুকুরে ঝাঁপ দেন। ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখেননি তারা। পুলিশ পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফলতায় পৌঁছে যান একাধিক রাজনৈতিক নেতা। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে প্রশাসনিক বৈঠকও করা হয়। এরই মধ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে যায়, যখন বিরোধী শিবিরের এক শীর্ষ নেতা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কড়া মন্তব্য করেন। এবার এই ইস্যুতে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নাম না করে জাহাঙ্গিরের স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আইন নিজের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করলে তা বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল যে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



