কলকাতা: পারেনি বাম-তৃণমূল, উল্টে বাংলায় বন্ধ হয়েছে একাধিক জুটমিল (Jute Mill)। রাজ্যে পালাবদলের ৩৮ দিনের মধ্যে চমক দিল বাংলার গেরুয়া সরকার। শ্রম এবং পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের উদ্যোগে খুলে গেল বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা জগদ্দলের জুটমিল। ক্ষমতায় আসার মাত্র ৩৮ দিনের মাথায় উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলের বন্ধ থাকা এলায়েন্স জুটমিল সম্প্রতি পুনরায় চালু হয়েছে। নবনির্বাচিত শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের মধ্যস্থতা ও তৎপরতাতেই মিলটির অচলাবস্থা দূর হয়েছে এবং প্রায় ২,০০০ শ্রমিক কাজ ফিরে পেয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তে প্রায় ২,০০০ শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জীবনে আবার আশার আলো ফিরেছে। যে মিলটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা বেকারত্বের অন্ধকারে ডুবে ছিলেন, সেটি আবার চালু হওয়ায় এলাকায় উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে।হুগলি-হাওড়া শিল্পাঞ্চলের এই জুট মিলটি একসময় হাজার হাজার পরিবারের ভরসা ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে নানা কারণে মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন।
আরও দেখুনঃশতদ্রু নয় অপরাধী অরূপই! রহস্য ফাঁস করল মেসির ম্যানেজমেন্ট টিম
অনেকে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন, কেউ দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। কিন্তু নতুন সরকারের এই উদ্যোগ তাদের চোখে জল এনেছে।মিল চালু হওয়ার প্রথম দিনেই শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন। মেশিনের শব্দ ফিরে আসায় পুরো কারখানা এলাকা যেন নতুন করে জেগে উঠেছে। পুনর্বহাল হওয়া শ্রমিকরা জানিয়েছেন “২০০০-এর মতো কর্মী সরাসরি কাজ পেয়েছেন। পরোক্ষভাবে আরও অনেক পরিবারের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়েছে।
ঠিকাদার, পরিবহন, দোকানদার সবাই উপকৃত হবেন।” মহিলা শ্রমিকরা বিশেষভাবে খুশি। অনেকের স্বামী বেকার ছিলেন, এখন দুজনের রোজগারে সংসার আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে।নতুন শিল্পমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি শুধু একটি মিল নয়, বৃহত্তর শিল্প পুনরুজ্জীবনের প্রথম ধাপ।
রাজ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেক জুট মিল, টেক্সটাইল ইউনিট ও ছোট-বড় কারখানা চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, ১০০ দিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মিল চালু করা। এর জন্য ব্যাঙ্ক, শিল্পপতি ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে।এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে রাজ্যের শিল্প পুনরুদ্ধারের রোডম্যাপ। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ, জল ও অন্যান্য পরিকাঠামো সমস্যা ছিল। নতুন সরকার সেসব ছিদ্রপূরণ করে দ্রুত মিল চালুর নির্দেশ দিয়েছে। জুট শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ, বাজার ও রফতানির সুবিধা বাড়াতেও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।



