শতদ্রু নয় অপরাধী অরূপই! রহস্য ফাঁস করল মেসির ম্যানেজমেন্ট টিম

ফুটবলের রাজপুত্র মেসির কলকাতা সফর ঘিরে ছড়িয়ে ছিল উত্তেজনা। (Messi)মেসিকে দেখার সুযোগ পেয়েও তা হাতছাড়া হয়েছিল কয়েক লক্ষ মানুষের। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সেদিন অভিশাপের ছায়া নিয়ে…

messi-kolkata-visit-controversy-arup-biswas-shatadru-dutta-letter

ফুটবলের রাজপুত্র মেসির কলকাতা সফর ঘিরে ছড়িয়ে ছিল উত্তেজনা। (Messi)মেসিকে দেখার সুযোগ পেয়েও তা হাতছাড়া হয়েছিল কয়েক লক্ষ মানুষের। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সেদিন অভিশাপের ছায়া নিয়ে নেমে এসেছিল চরম বিশৃঙ্খলা। টিকিট নিয়ে চরম দুর্নীতির খবরে উত্তাল হয়েছিল বাংলার রাজনৈতিক ময়দান।

কাঠগড়ায় ছিলেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং আয়োজক শতদ্রু দত্ত। এই ঘটনার জেরে শতদ্রুকে জেল পর্যন্ত খাটতে হয়েছিল। এবার এই মেসি কাণ্ডের মোড় ঘোরাল একটি চিঠি। যে চিঠি এসেছে খোদ মেসির ম্যানেজমেন্ট টিমের তরফ থেকে। সেই চিঠিতে স্পষ্ট বলা আছে প্রটোকল ভেঙে ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস নিজেই, শতদ্রুর কোনও দোষ ছিল না।

   

আরও দেখুনঃ সাধারণ মানুষের বিপুল সাড়া! আরও একদিন বাড়ল ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর মেয়াদ

চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, শতদ্রু দত্ত যিনি আয়োজক কমিটির সঙ্গে যুক্ত এই বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী নন। বরং মন্ত্রী সুজিত বসু এবং অরূপ বিশ্বাস নিজেই অনেকগুলি অননুমোদিত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে মাঠের ভেতরে প্রবেশ করেন। মেসির কাঁধে ও কোমরে হাত রেখে ছবি তোলা, অপ্রত্যাশিতভাবে তার সঙ্গে কথা বলা এসব কিছুই আগে থেকে নির্ধারিত প্রোটোকলে ছিল না।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাঠের ভেতরে অননুমোদিত ফটোগ্রাফারদের ভিড় ছিল অস্বাভাবিক। যাদের প্রবেশের অনুমতি ছিল না, এমন অনেকেই মেসির খুব কাছাকাছি চলে আসেন। ফলে নিরাপত্তা কর্মীরা নিজেরাই চাপে পড়ে যান। মেসির টিমের অভিযোগ, এই অনিয়মগুলোর কারণে তারকার নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও প্রোটোকল মেনে চলা হয়নি বলে চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

যদিও এই নক্কারজনক ঘটনা নিয়ে আগেই তদন্ত শুরু হয়ে গিয়েছিল। এরপর রাজ্যে পালাবদল হতেই তদন্তের গতি আরও বাড়ে এবং অভিযুক্ত অরূপ বিশ্বাসকে দক্ষিণ বিধাননগর থানায় হাজিরা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে হাইকোর্টের রক্ষাকবচ নিয়ে এই মুহূর্তে হাজিরা এড়িয়েছেন অরূপ এবং তাকে দেখাও যায়নি দীর্ঘদিন।

রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলের একাংশের দাবি দ্রুততার সঙ্গে অরূপের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং সাধারণ মানুষের টিকিটের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হোক। তাদের মতে যাদের কারণে এই বিশৃঙ্খলার সূচনা হয়েছে এবং যুবভারতী লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বাবসা নেওয়া হোক।