বয়সের ভার কিংবা চোটের ভ্রুকুটি, কোনও কিছুই যে তাঁকে থামাতে পারে না, ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তা ফের প্রমাণ করলেন লিয়োনেল মেসি। ৭৮ মিনিটের অনবদ্য ফুটবলে আলজেরিয়াকে রীতিমতো তুলোধোনা করল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর সেই সঙ্গে বিশ্বকাপের আঙিনায় নিজের কেরিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিকটি সেরে ফেললেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সমালোচকদের সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে নীল-সাদা ব্রিগেড বুঝিয়ে দিল, ফের একবার ট্রফি ঘরে তুলতেই মাঠে নেমেছেন তাঁরা। (Lionel Messi World Cup 2026 Hat-trick)
সমালোচকদের মুখে ছাই
বয়স ৩৯ ছুঁয়েছে। আগের সেই ক্ষিপ্রতা কি আর আছে? চোট সারিয়ে কতটাই বা ফিট? টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এই প্রশ্নগুলোই ঘুরপাক খাচ্ছিল ফুটবল মহলে। কোচ স্কালোনি কি তাঁকে প্রথম একাদশে রাখবেন? সমস্ত সংশয় উড়িয়ে ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতেই মাঠে নামেন এলএম টেন (LM 10)। লক্ষ্য ছিল একটাই- শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা। আর অধিনায়কের কাঁধে ভরসা রেখে বিন্দুমাত্র হতাশ হতে হয়নি স্কালোনিকে।
শুরুর ধাক্কা সামলে জাদুকরের ম্যাজিক
ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারে অবশ্য কিছুটা ছন্নছাড়া লাগছিল আর্জেন্টিনাকে। মাঝমাঠের দখল নিতে তাদের যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছিল। এমনকি প্রথম ১০ মিনিটে দু’দলের জালেই বল জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। ভিএআর (VAR)-এর সিদ্ধান্তে বাতিল হওয়া গোলের তালিকায় ছিল মেসির শটও।
তবে ১৭ মিনিটে আর কোনও ভুল হয়নি। আলজেরীয় কোচ ভ্লাদিমির পেটকোভিচ এদিন এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, মেসিকে কড়া পাহারায় বা ম্যান মার্কিংয়ে না রাখা। এই চরম কৌশলগত ভুলের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগান মেসি। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর বাড়ানো থ্রু ধরে বক্সের বাইরে থেকেই আচমকা বাঁ পায়ের জোরালো শট নেন তিনি। প্রায় ২৫ গজের সেই দুরন্ত শট আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জ়িদান। প্রসঙ্গত, ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জ়িদানের ছেলে লুকার এদিনই বিশ্বকাপে অভিষেক হল।
চাপমুক্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ‘টিকি-টাকা’
প্রথম গোলটি আসার পরেই আসল রূপে ফেরে নীল-সাদা ব্রিগেড। বিশ্বজয়ের চাপ ঝেড়ে ফেলে মাঠে ফুল ফোটাতে শুরু করেন স্কালোনির ছেলেরা। বল পায়ে বেশি সময় নষ্ট না করে, দ্রুতগতির ‘ওয়ান-টাচ’ পাসে প্রতিপক্ষকে বোকা বানাতে থাকেন তাঁরা।
অন্যদিকে, মেসিও শারীরিক সক্ষমতার চেয়ে ফুটবলীয় বুদ্ধিকে হাতিয়ার করেন। নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় আবদ্ধ না থেকে, কখনও নীচে নেমে আক্রমণ শানাচ্ছিলেন, তো কখনও ফাঁকা জায়গা বুঝে বিদ্যুৎগতিতে ওপরে উঠছিলেন। তাঁর এই কৌশলগত মুভমেন্টে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে। প্রথমার্ধের শেষলগ্নে এসে কিছুটা ধীরলয়ে খেলা শুরু করে আর্জেন্টিনা, যাতে আলজেরিয়া কাউন্টার অ্যাটাকের সুযোগ না পায়। গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও, আর্জেন্টিনার দুর্ভেদ্য রক্ষণে চিড় ধরাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় আলজেরিয়া।



