এবার সেনা নিয়োগেও দুর্নীতি! মেজর জেনারেল সহ ২০ অফিসারের কোর্ট মার্শাল

কপূরথলা: ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভর্তি প্রক্রিয়াতেও এবার সামনে এল দুর্নীতি। (Army Recruitment)পঞ্জাবের কপূরথলায় এসএসবি (সার্ভিস সিলেকশন বোর্ড) ভর্তিতে ঘুষের বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীদের মেডিক্যাল ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার অভিযোগে…

army-recruitment-corruption-case

কপূরথলা: ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভর্তি প্রক্রিয়াতেও এবার সামনে এল দুর্নীতি। (Army Recruitment)পঞ্জাবের কপূরথলায় এসএসবি (সার্ভিস সিলেকশন বোর্ড) ভর্তিতে ঘুষের বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীদের মেডিক্যাল ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার অভিযোগে ২০ জন সেনা অফিসারের বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শালের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এঁদের মধ্যে একজন মেজর জেনারেলও রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই অফিসাররা ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে মেডিক্যালভাবে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরিতে ঢোকার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।

একজন জওয়ানও এই কাজে সহায়তা করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি প্রত্যাখ্যাত প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করে অযোগ্যদের চিহ্নিত করে দিতেন। ঘুষের লেনদেন ইউপিআই ট্রানজেকশনের মাধ্যমে হয়েছে, যা ইতিমধ্যে ট্রেস করা হয়েছে। এই ঘটনায় সেনাবাহিনীর ভর্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিনের গোপন তদন্তের পর এই ঘটনা ধরা পড়ে। অভিযুক্ত অফিসাররা বিভিন্ন স্তরে দায়িত্বে ছিলেন।

   

আরও দেখুনঃ https://kolkata24x7.in/india/arudhra-radar-f35-detection/

তাঁরা মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় ঘুষের বিনিময়ে ফিট সার্টিফিকেট দিয়েছেন বলে অভিযোগ। যে জওয়ান এই চক্রে জড়িত ছিলেন, তিনি প্রার্থীদের তথ্য সরবরাহ করে সহায়তা করতেন। পুলিশ ও সেনার যৌথ তদন্তে ইউপিআই আইডি, ব্যাঙ্ক ট্রানজেকশন এবং অন্যান্য প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে।এই ঘটনা সেনাবাহিনীর ভিতরে এবং বাইরে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, “সেনাবাহিনী দেশের সবচেয়ে সম্মানিত প্রতিষ্ঠান। এখানে যদি ঘুষের চক্র চলে, তাহলে সাধারণ যুবকদের মধ্যে আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে।” একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল বলেন, “যোগ্য প্রার্থীরা বছরের পর বছর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়, আর অযোগ্যরা টাকা দিয়ে ঢুকে পড়ে এটা একেবারেই অসহনীয়।”সেনা সদর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, এই বিষয়ে কোনও আপস করা হবে না।

সকল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সখত কোর্ট মার্শাল চলবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। সেনাবাহিনী এই ঘটনাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই ঘটনার প্রভাব সেনাবাহিনীর ভর্তি প্রক্রিয়ার উপর পড়বে। অনেক অভিভাবক ও প্রার্থী এখন প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের সন্তানেরা যে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, সেটি কতটা ন্যায্য?

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের যোগ্য যুবকেরা যাঁরা শারীরিকভাবে ফিট কিন্তু অর্থের অভাবে পিছিয়ে পড়েন, তাঁদের হতাশা আরও বেড়েছে।রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন দল সেনাবাহিনীর মধ্যে দুর্নীতি দমনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভর্তি প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আনা দরকার। ডিজিটাল মনিটরিং, সিসিটিভি এবং থার্ড পার্টি অডিটের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা রোধ করা সম্ভব।