নয়াদিল্লি: ক্যালেন্ডারের পাতায় বর্ষা এসে গিয়েছে। দেশের বিস্তীর্ণ অংশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশও করে গিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বৃষ্টির দেখা কার্যত নেই। গরমে এখনও হাঁসফাঁস করছে দেশের একটা বড় অংশ। এর মধ্যেই আরও দুঃসংবাদ শোনাল আবহাওয়া দফতর। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী অন্তত এক সপ্তাহ দেশজুড়ে ব্যাপক বা ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়ার মডেলগুলি বলছে, ২৩ জুনের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা খুবই ক্ষীণ। (India monsoon remains weak)
দুর্বল মৌসুমি বায়ু, বাড়ছে বৃষ্টির ঘাটতি
আবহাওয়াবিদদের মতে, মধ্য ও পূর্ব ভারতের বেশ কিছু এলাকায় বর্ষা প্রবেশ করলেও বর্তমান আবহাওয়া ব্যবস্থা (Weather System) অস্বাভাবিক রকমের দুর্বল। স্যাটেলাইট চিত্রেও বৃষ্টির অনুকূল মেঘের সেভাবে দেখা মিলছে না। যার জেরে ১৫ থেকে ২১ জুনের মধ্যে দেশের এক বিশাল অংশে কার্যত বৃষ্টিহীন পরিস্থিতি থাকবে। ফলে আগামী দিনে দেশে সার্বিক বৃষ্টির ঘাটতি আরও অনেকটাই বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই শুষ্ক পর্বের মধ্যেও দক্ষিণ ভারতের কিছু জায়গায় স্থানীয়ভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা ও পূর্বঘাট পর্বতমালার বেশ কিছু অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়া বইতে পারে।
বর্ষা এগোলেও বৃষ্টি নেই কেন?
আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানচিত্রে মৌসুমি বায়ুর অগ্রসর হওয়া এবং মুষলধারে বৃষ্টিপাত, এই দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে মহারাষ্ট্রের একাংশ, বাকি কর্নাটক, তেলঙ্গানা, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং ছত্তীসগঢ়ের কিছু অংশে মৌসুমি বায়ুর বিস্তার ঘটতে পারে। কিন্তু ভারী বৃষ্টির জন্য বায়ুমণ্ডলে যে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হওয়া প্রয়োজন, তা এই মুহূর্তে চরম দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। আর সেই কারণেই বর্ষা ঢুকে পড়ার খবর মিললেও বৃষ্টির ঘাটতি মেটার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
কবে স্বমহিমায় ফিরবে বর্ষা?
দীর্ঘ এই শুষ্ক পর্ব কাটিয়ে কবে মিলবে স্বস্তি? হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, ২২ থেকে ২৮ জুন, এই সময়ে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে। মূলত অন্ধ্রপ্রদেশ-কর্নাটক সীমান্ত, দক্ষিণ তামিলনাড়ু এবং কেরলের পশ্চিমঘাট এলাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এছাড়া কেরল ও কর্নাটক উপকূল থেকে শুরু করে মুম্বই পর্যন্ত বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। তবে এখনই অতিভারী বৃষ্টির কোনও সতর্কতা নেই।
২৯ জুন থেকে ৫ জুলাই, মাসের একেবারে শেষলগ্নে গিয়ে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। আবহাওয়ার বিভিন্ন মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই সময়পর্বে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ফের সক্রিয় হয়ে উঠবে এবং দেশজুড়ে বৃষ্টির ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করবে। আপাতত জুনের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বৃষ্টির এই লুকোচুরি খেলা চলবে বলেই মনে করছে হাওয়া অফিস।



