
Airbus C295: ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাত এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গুজরাটের ভাদোদরায় অবস্থিত টাটা-এয়ারবাস কারখানায় সম্পূর্ণভাবে নির্মিত ভারতের প্রথম ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ সি-২৯৫ (C-295) সামরিক পরিবহন বিমানটি সফলভাবে তার প্রথম উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে। ভারতের সামরিক বিমান চলাচলের উচ্চাকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে এই ঐতিহাসিক পরীক্ষামূলক উড্ডয়নকে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। ভারতীয় বিমান চলাচলের ইতিহাসে এই প্রথমবার বেসরকারি খাতের মাধ্যমে দেশের ভেতরেই কোনো সামরিক বিমান তৈরি করা হলো।
এই অর্জনটি কেন তাৎপর্যপূর্ণ?
বেসরকারি খাতের জন্য এক বড় অগ্রগতি: টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস (TASL) এবং ইউরোপীয় জায়ান্ট এয়ারবাসের মধ্যকার এই অংশীদারিত্ব ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় রচনা করছে।
বিমান বাহিনীর জন্য এক বাড়তি শক্তি: এই বিমানটি ভারতীয় বিমান বাহিনীর পুরনো হয়ে যাওয়া অ্যাভ্রো-৭৪৮ (Avro-748) বিমানবহরের স্থলাভিষিক্ত হবে।
দুর্গম ভূখণ্ডের জন্য এক আশীর্বাদ: দুটি টার্বোপ্রপ ইঞ্জিন-চালিত এই বিমানটি অত্যন্ত বন্ধুর ও স্বল্প দৈর্ঘ্যের রানওয়ে থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম; ফলে পার্বত্য ও দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকায় রসদ ও অতিরিক্ত সৈন্যদল পৌঁছে দেওয়া সেনাবাহিনীর জন্য সহজতর হয়ে ওঠে।
The first ‘Made in India’ Airbus C295 military transport aircraft has conducted its first test flight from the Final Assembly Line in Vadodara 🇮🇳, marking a milestone for Indian aviation and defence. This maiden test flight is a crucial step in the aircraft’s post production… pic.twitter.com/nPkjpIENkD
— Airbus Defence (@AirbusDefence) June 10, 2026
এই চুক্তির আওতায় ভারতে ৪০টি বিমান তৈরি করা হবে
মোট ৫৬টি সি-২৯৫ (C-295) বিমানের জন্য ভারত এয়ারবাসের সাথে প্রায় ২১,৯৩৫ কোটি টাকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ১৬টি বিমান সরাসরি স্পেন থেকে ‘ফ্লাই-অ্যাওয়ে’ অবস্থায় ভারতে নিয়ে আসা হয়েছে; অন্যদিকে, বাকি ৪০টি বিমান সম্পূর্ণভাবে ভাদোদরায় অবস্থিত টাটা-এয়ারবাস কারখানাতেই তৈরি করা হচ্ছে।
ভাদোদরা থেকে উড্ডয়নকারী এই বিমানটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের প্রথম এক দুর্দান্ত সাফল্য। এই সাফল্যের জন্য পুরো দলকে অভিনন্দন জানিয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে যে, এই অর্জন মহাকাশ ও বিমান চলাচল খাতে ভারতের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকে তুলে ধরে এবং এটি দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

