ঋতব্রতর পর কাকলির দলে ১০ সাংসদ! আগামীকালই পেশ হবে অভিষেক বিরোধী চিঠি

নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য একের পর এক ধাক্কা। (TMC MP)পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ৬০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের বিদ্রোহের পর এবার লোকসভাতেও বড়সড় ফাটল দেখা দিয়েছে। দলের একাধিক…

tmc-mp-rebellion

নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য একের পর এক ধাক্কা। (TMC MP)পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ৬০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের বিদ্রোহের পর এবার লোকসভাতেও বড়সড় ফাটল দেখা দিয়েছে। দলের একাধিক সাংসদ দিল্লিতে শিবির গড়েছেন এবং লোকসভা স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই ঘটনাকে তৃণমূল শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

সূত্রের খবর, বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে লোকসভার অন্তত ১০ জনের বেশি সাংসদ সক্রিয় সমর্থন জানিয়েছেন। মোট ২০ জনের মতো তৃণমূল সাংসদ বিদ্রোহী এমএলএদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এঁরা দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এবং সাংগঠনিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

Advertisements

আরও দেখুনঃ অশোকের খোঁজে মুখ্যমন্ত্রীর ফোন, আশীর্বাদ চাইলেন শুভেন্দু

বিদ্রোহী সাংসদরা দিল্লিতে সমবেত হয়ে লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি চিঠি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। চিঠিতে তাঁরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভায় দলের নেতা হিসেবে আর স্বীকার না করার কথা জানাতে পারেন। কেউ কেউ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে লোকসভায় নতুন নেতা হিসেবে দেখতে চান। কাকলি ঘোষ দস্তিদার সম্প্রতি দলের বিভিন্ন পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন এবং প্রকাশ্যে নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন।

দিল্লিতে বিদ্রোহীদের এই তৎপরতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামীকাল তিনি অভিষেকসহ দিল্লি আসছেন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে। কিন্তু তার আগেই দলের সাংসদদের একাংশের এই বিদ্রোহ তাঁকে চাপে ফেলেছে। দলের অন্দরে খবর, মমতা এখনও অনেক সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তাঁদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তবে বিদ্রোহীরা বলছেন, এখন আর ফেরার পথ নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিদ্রোহ যদি আরও বড় আকার নেয় তাহলে তৃণমূলের সংসদীয় দল ভেঙে যেতে পারে। অ্যান্টি-ডিফেকশন আইন অনুসারে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ একসঙ্গে গেলে নতুন গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব। তৃণমূলের লোকসভায় ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন।

১৯ জনের বিদ্রোহ হলে দল ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি হবে।কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এই গোষ্ঠী এখন সক্রিয়। তিনি দলের নির্বাচনী পরাজয়ের জন্য নেতৃত্বের ভুল নীতি ও সিন্ডিকেট রাজনীতিকে দায়ী করেছেন। তাঁর সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলোতে মমতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অভিষেকের কার্যপদ্ধতির সমালোচনা করা হয়েছে।