অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম জেলায় চলন্ত ট্রেনে পাথর ও ভারী বস্তু ছুড়ে আক্রমণের ঘটনায় ছড়াল চাঞ্চল্য। (Stone Pelting)নয়াদিল্লি থেকে চেন্নাইগামী জিটি এক্সপ্রেস (ট্রেন নম্বর ১২৬১৬) সিঙ্গারায়াকোন্ডা-উলাভাপাডু সেকশনে চলার সময় দুর্বৃত্তরা পাথর ও ভারী জিনিস ছুড়ে মারে। এতে লোকোমোটিভের উইন্ডশিল্ড ভেঙে যায় এবং সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো পাইলট এম. জয়রাম গুরুতর আহত হন।
শুক্রবার রাতের এই ঘটনায় ট্রেনে থাকা শত শত যাত্রীদের জীবন বিপন্ন হয়েছিল। কিন্তু লোকো পাইলট ও তাঁর সহকর্মীদের সাহস ও দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। আহত অবস্থাতেও তাঁরা ট্রেনটিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে নিকটবর্তী উলাভাপাডু স্টেশনে নিরাপদে থামাতে সক্ষম হন। জয়রামের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বিজয়ওয়াড়া রেলওয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
আরও দেখুনঃ মণিপুরে নিরাপত্তা রক্ষীর যৌথ অভিযানে গ্রেফতার একাধিক জঙ্গি! উদ্ধার বিপুল মাদক
বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকায় প্রায়ই এ ধরনের পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। কিন্তু এবারের আক্রমণ ছিল অস্বাভাবিকভাবে ভয়ংকর। দুর্বৃত্তরা শুধু পাথর নয়, ভারী ধাতব বস্তুও ছুড়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ভাঙা কাচের টুকরো লোকো পাইলটের শরীরে বিঁধে যায়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেনের লোকোমোটিভের সামনের অংশ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ) এবং স্থানীয় পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষীদের বয়ান এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করতে অভিযান চলছে। এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে। রেলমন্ত্রকের কাছে এই ঘটনার রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।ভারতীয় রেলওয়েতে পাথর ছোড়ার ঘটনা নতুন নয়। বিভিন্ন রাজ্যে বারবার এমন ঘটনা ঘটছে। কিন্তু লোকো পাইলটের মতো ফ্রন্টলাইন কর্মীরা যখন গুরুতর আহত হন, তখন প্রশ্ন ওঠে আমাদের রেল ব্যবস্থা কতটা নিরাপদ?
রেলওয়ে ইউনিয়নগুলো দীর্ঘদিন ধরে লোকো পাইলটদের নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে। উন্নতমানের উইন্ডশিল্ড, সিকিউরিটি কভার এবং পেট্রোলিং বাড়ানোর দাবি আরও জোরালো হয়েছে এই ঘটনার পর।সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র। অনেকে বলছেন, এ ধরনের দুর্বৃত্তদের কঠোর শাস্তি না হলে এই ঘটনা বন্ধ হবে না। আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করে দ্রুত অভিযুক্তদের ধরা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষেরও উচিত ট্র্যাকের দুপাশে নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা, বিশেষ করে সংবেদনশীল এলাকায়।



















