কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অরূপ বিশ্বাস-এর ভাই (Swarup Biswas)এবং টলিউডের প্রভাবশালী সংগঠন Federation of Cine Technicians and Workers of Eastern India-এর প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার সাহাপুর কলোনি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার সকালে তাঁকে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া মেনে আলিপুর পুলিশ আদালত-এ পেশ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই গ্রেফতারির ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক ও চলচ্চিত্র মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, টলিউডের এক মেকআপ আর্টিস্ট এবং একাধিক টেকনিশিয়ানের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা রুজু করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন কলাকুশলী ও টেকনিশিয়ানদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হতো। পাশাপাশি কাজের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক মহিলা মেকআপ আর্টিস্টের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও যৌন হেনস্থার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ফের বঙ্গে মোদী! ২০ জুন তারকেশ্বরে মেগা সভা, নেতাজি ইন্ডোরে করবেন যোগাভ্যাস
শুধু যৌন হেনস্থাই নয়, স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তোলাবাজিরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, টলিপাড়ার বিভিন্ন কলাকুশলী, টেকনিশিয়ান এবং কর্মীদের হুমকি দিয়ে ও ভয় দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা কাটমানি আদায় করা হতো। অভিযোগ উঠেছে, সংগঠনের প্রভাব খাটিয়ে অনেকের কাছ থেকেই নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগকারিণীকে কাজ করতে বাধা দেওয়া, দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখানো এবং খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে।
এছাড়াও নিউ আলিপুর থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরে অস্ত্র আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে অস্ত্র আইনের ২৫ ও ২৭ নম্বর ধারায় মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতে ইতিমধ্যেই একাধিক নথি, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ডিসেম্বর মাসে আয়োজিত লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে টিকিট কালোবাজারি ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত বিতর্কেও স্বরূপ বিশ্বাসের নাম সামনে এসেছিল। সেই ঘটনার তদন্তেও তাঁর এবং অরূপ বিশ্বাসের নাম উঠে আসে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। যদিও সেই সংক্রান্ত তদন্ত এখনও চলছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
বৃহস্পতিবার রাতে স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিউ আলিপুর থানার বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষের একাংশ থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য পুলিশ অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে স্বরূপ বিশ্বাসকে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করে আইন মাফিক তার শাস্তির আবেদন করা হচ্ছে।



















