কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার (Jayprakash Majumdar)। সল্টলেকের একটি আবাসনে দীর্ঘদিনের সম্পত্তি-বিবাদের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, সল্টলেকের একটি ফ্ল্যাট দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছিলেন জয়প্রকাশ। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, বহুবার ফ্ল্যাট খালি করার অনুরোধ এবং আইনি নোটিস পাঠানো হলেও সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি। সম্প্রতি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর ফ্ল্যাটের মালিক ও তাঁর পরিবার পুনরায় নিজেদের সম্পত্তির দখল ফিরে পাওয়ার দাবি নিয়ে সামনে আসেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ফ্ল্যাট খালি করার প্রসঙ্গ উঠলেই নানা ধরনের চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হত। তৃণমূলের প্রভাব খাটিয়ে বাড়ি না ছাড়ার হুমকি দিতেন জয় প্রকাশ এমনটাও অভিযোগ উঠেছে।
আরও দেখুনঃ ‘শান্তিনিকেতন’ থেকে সরল নিরাপত্তা! গ্রেফতারি এড়াতে হাই কোর্টে অভিষেক
ঘটনার আরও গুরুতর মোড় নেয় যখন পরিবারের পক্ষ থেকে এক মহিলা সদস্যের শ্লীলতাহানির অভিযোগও সামনে আনা হয়। অভিযোগকারী পরিবারের বক্তব্য, সাম্প্রতিক বচসার সময় ওই মহিলার শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। এই অভিযোগও বর্তমানে পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষের তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সম্পত্তির মালিকানা, বসবাসের বৈধতা এবং অন্যান্য নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে শ্লীলতাহানির অভিযোগ সম্পর্কেও পৃথকভাবে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।
রাজনৈতিক মহলেও ঘটনাটি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ দাবি করছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের সম্পত্তি সংক্রান্ত সমস্যাকে উপেক্ষা করেছে জয় প্রকাশ মজুমদার। অন্যদিকে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ মহল মনে করছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না এবং আইনের উপরই ভরসা রাখা উচিত।



















