কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে ক্ষমতা হারানোর পর এই প্রথমবার প্রকাশ্য কর্মসূচিতে নামছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর নিজের সেই চেনা রাজনৈতিক রণক্ষেত্র অর্থাৎ ‘পথকেই’ প্রতিবাদের প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নিচ্ছেন তিনি৷ তবে পূর্বপরিকল্পিত অবস্থান বিক্ষোভ বা ধরনা নয়, কর্মসূচিতে কিছুটা বদল এনে এবার রানি রাসমনি অ্যাভিনিউতে সোজা পদযাত্রা করতে চলেছেন তৃণমূলনেত্রী। (Mamata Banerjee returns to streets after 2026 election defeat)
রাজনৈতিক মহলের মতে, ছাব্বিশের ধাক্কা সামলে দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘স্ট্রিট ফাইট’-এর সিদ্ধান্ত। তৃণমূল সূত্রের খবর, প্রথমে স্থির হয়েছিল ২ জুন রানি রাসমনি অ্যাভিনিউতে অবস্থান বিক্ষোভে বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার জন্য পুলিশের অনুমতিও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অনুমতি যে মিলবে না, তা বেশ টের পেয়ে অবস্থান বিক্ষোভের পরিবর্তে রানি রাসমনি অ্যাভিনিউ ধরে মিছিল করার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। তৃণমূলনেত্রীর মূল মন্ত্র এখন একটাই, ‘রাস্তাই রাস্তা দেখাবে’।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল পুলিশের অনুমতি মেলানো নিয়ে তৃণমূলনেত্রীর অনড় অবস্থান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই কর্মসূচির জন্য পুলিশ যদি কোনো কারণে অনুমতি না-ও দেয়, তাও তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন না। কোনো রাজনৈতিক রং ছাড়াই, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই তিনি রাস্তায় নেমে নিজের প্রতিবাদ নথিভুক্ত করবেন।
আসলে, গত দু’দিনে তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট সাংসদ আমজনতার ক্ষোভের মুখে পড়েছেন। গত শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রবিবার চণ্ডীপুরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জনতার হাতে প্রহৃত হয়েছেন। এই জোড়া ধাক্কায় তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আর ঠিক এই পরিস্থিতিতে দলের নেতা-কর্মীদের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে রাস্তায় নেমে মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মঙ্গলবারের এই পদযাত্রা থেকে মূলত যে বিষয়গুলিকে সামনে রেখে বিজেপি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে ঘাসফুল শিবির, সেগুলি হল, ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ, নির্বাচনে কারচুপি, রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কর্মীদের ওপর লাগাতার হামলা এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে বিরোধী নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।




















