ইম্ফল: মণিপুরের সংঘাতপ্রবণ পাহাড়ি এলাকায় আরও একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। (Manipur)কনসাখুল গ্রামের তিনজন সাধারণ গ্রামবাসী জলের উৎস মেরামত করতে গিয়ে কুকি মিলিট্যান্টদের অতর্কিত আক্রমণের শিকার হয়েছেন। ফুটহিলস নাগা কোঅর্ডিনেশন কমিটির কনভেনর এনজি আখিউ এই ঘটনাকে ‘বর্বরোচিত’ বলে তীব্র নিন্দা করেছেন এবং সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে। কনসাখুল গ্রামের তিনজন বাসিন্দা গ্রামের জল সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক করার জন্য পাহাড়ের উপরের জলের উৎসের দিকে গিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর কুকি ন্যাশনাল ফ্রন্ট-প্রেসিডেনশিয়াল (KNF-P) নামে পরিচিত কুকি মিলিট্যান্ট গোষ্ঠীর সদস্যরা তাঁদের ওপর আক্রমণ চালায়। আক্রমণে একজন গ্রামবাসী গুরুতর আহত হয়েছেন।
আরও দেখুনঃ মমতার বৈঠকে বড় ধাক্কা! ৮০ বিধায়কের মধ্যে হাজির মাত্র ১৮ জন
অন্য দুজন জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়ে কিছুক্ষণ নিখোঁজ ছিলেন, পরে তাঁরা নিরাপদে ফিরে আসতে সক্ষম হন।এনজি আখিউ বলেন, “আজ কনসাখুল গ্রামে একটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে। তিনজন নিরীহ গ্রামবাসী জলের উৎস মেরামত করতে গিয়েছিলেন। কুকি মিলিট্যান্টরা সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল এবং তাঁদের উপর আক্রমণ চালায়। একজন আহত হয়েছেন। অন্য দুজন জঙ্গলে হারিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু সৌভাগ্যবশত তাঁরা নিরাপদে ফিরে এসেছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কুকি মিলিট্যান্টরা সবসময় নিরীহ নাগা গ্রামবাসীদের উপর আক্রমণের জন্য প্রস্তুত থাকে এবং তাঁদের সরলতার সুযোগ নেয়।এই ঘটনা মণিপুরের দীর্ঘদিনের জাতিগত উত্তেজনা ও সংঘাতের আরেকটি উদাহরণ। নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জমি, প্রভাব এবং আধিপত্য নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। গ্রামবাসীরা বলছেন, জল সরবরাহের মতো মৌলিক কাজ করতে গিয়েও যদি জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়, তাহলে পাহাড়ি এলাকায় শান্তি ফেরানো কতটা কঠিন।
আহত গ্রামবাসীকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।ফুটহিলস নাগা কোঅর্ডিনেশন কমিটি এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা করে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে যে, দোষীদের শনাক্ত করে আইন অনুসারে শাস্তি দেওয়া হোক। এনজি আখিউ বলেছেন, “আমরা এই বর্বর ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি।
সরকারকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করতে হবে এবং অপরাধীদের শাস্তি দিতে হবে।”মণিপুরে গত কয়েক বছর ধরে চলা সংঘাতে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার বারবার শান্তি প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দিলেও মাঝেমধ্যেই এ ধরনের অতর্কিত হামলা ঘটছে। স্থানীয় প্রশাসন এখনও এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।




















