চুঁচুড়া: সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিক্ষোভ এবং উত্তেজনার ঘটনার রেশ এবার পৌঁছে গেল হুগলির চুঁচুড়ায় (Asit Majumdar)। সেই ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকা অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে চুঁচুড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার-সহ দলের একাধিক নেতা ও কর্মীকে। রবিবার সকালে চুঁচুড়া থানার পুলিশ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করে। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার হুগলির পিপুলপাতি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি পথ অবরোধ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মূলত সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এবং তাঁর উপর হামলার অভিযোগের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। ওই অবরোধে নেতৃত্ব দেন চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বড় জমায়েত হওয়ায় এলাকায় যান চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
আরও দেখুনঃ পঞ্চম প্রজন্মের দুই আসনের যুদ্ধবিমানের জন্য ভারতকে শক্তিশালী প্রস্তাব রাশিয়ার
অভিযোগ, অবরোধ তুলে দেওয়ার জন্য পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তাদের বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। পুলিশের দাবি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অসহযোগিতা করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়।
রবিবার সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অসিত মজুমদারকে গ্রেফতার করে। তাঁর পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে চুঁচুড়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সাহা, পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমিত্র ঘোষ, কাউন্সিলার রঞ্জন রাহা, নির্মল চক্রবর্তী, সমীর সরকার-সহ আরও কয়েকজন তৃণমূল কর্মীকে। গ্রেপ্তার হওয়া সকলকেই প্রথমে চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাঁদের আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার সোনারপুরে। সেখানে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিক্ষোভের মুখে পড়েন বলে অভিযোগ। তাঁর কনভয় লক্ষ্য করে কাঁচা ডিম, জুতো এবং ইটের টুকরো ছোড়া হয় বলে তৃণমূলের দাবি। পাশাপাশি ‘চোর, চোর’ স্লোগানও শোনা যায়। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস। হুগলির পিপুলপাতির অবরোধও সেই কর্মসূচিরই অংশ ছিল। তবে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের অভিযোগে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়েই তাঁদের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীদের বক্তব্য, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে প্রশাসনকে পদক্ষেপ করতেই হবে। ফলে ঘটনাটি শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হয়েছে। একের পর এক সংঘাত, বিক্ষোভ এবং পাল্টা অভিযোগের জেরে রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। চুঁচুড়ায় অসিত মজুমদার-সহ তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারের ঘটনা সেই উত্তেজনাকেই আরও বাড়িয়ে দিল। এখন আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং পুলিশের তদন্তের দিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।




















