ইরানমুখী জাহাজে মার্কিন হামলা, হরমুজ প্রণালী ঘিরে চরম উত্তেজনা

ইরানের দিকে যাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করল মার্কিন সেনা। হরমুজ প্রণালী (Strait Of Hormuz) ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে।

By Rana Das

Published:

Follow Us
us-attack-on-iran-bound-commercial-ship-hormuz-tension

ফ্লোরিডা: পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ইরানমুখী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে সরাসরি হামলার দাবি করল মার্কিন সেনা। United States Central Command বা সেন্টকম জানিয়েছে, গাম্বিয়ার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে অচল করে দেওয়া হয়েছে, কারণ সেটি মার্কিন নৌ অবরোধ অমান্য করে ইরানের দিকে এগোচ্ছিল।

সেন্টকমের দাবি, ‘এম/ভি লিয়ান স্টার’ নামে ওই জাহাজটি ওমান উপসাগর হয়ে একটি ইরানি বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা অবস্থায় মার্কিন বাহিনী জাহাজটিকে ২০ বারেরও বেশি সতর্কবার্তা পাঠায় এবং জানায় যে সেটি মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘন করছে।

   

তবে অভিযোগ, জাহাজের ক্রুরা সেই নির্দেশ মানেননি। এরপরই মার্কিন বিমান থেকে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে আঘাত করা হয়। সেন্টকম জানিয়েছে, “জাহাজটি আর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে না।”

পাঁচটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করার দাবি

মার্কিন সেনার দাবি, ইরানকে ঘিরে চলা বৃহত্তর সামুদ্রিক অবরোধ অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত পাঁচটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করা হয়েছে এবং ১১৬টি জাহাজকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই সামুদ্রিক অবরোধ শুরু হয় গত ১৭ এপ্রিল। তার আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর গোটা অঞ্চলে সংঘাত তীব্র আকার নেয়। এরপর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীর উপর নিয়ন্ত্রণ কড়া করে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা দেয়।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব বাড়ছে

বর্তমান সংঘাতের জেরে অপরিশোধিত তেল, এলএনজি এবং সারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বহু পণ্যবাহী জাহাজ আটকে পড়েছে বা রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। এর প্রভাব বিশ্ব বাজারে জ্বালানি এবং কৃষিক্ষেত্রেও পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহণ হয়। ফলে এই জলপথে অস্থিরতা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা আরও বাড়বে।

যুদ্ধবিরতি থাকলেও টানাপোড়েন অব্যাহত

যদিও গত ৭ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা কমেনি। বর্তমানে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করার চেষ্টা চলছে।

তবে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি বলে জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনও এই নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি।

“নিয়ম না মানলে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে”: ইরান

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বার্তায় জানানো হয়েছে, ইরানের নির্দেশ অমান্য করে কোনও সামরিক জাহাজ যদি হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের নিরাপত্তা “গুরুতর ঝুঁকির” মুখে পড়বে।

কাতারের অবস্থানও স্পষ্ট

এদিকে কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী Saoud bin Abdulrahman Al Thani জানিয়েছেন, দোহা স্থায়ী ট্রানজিট টোলের বিরোধিতা করলেও, সাময়িকভাবে মাইন অপসারণ বা নিরাপত্তা খাতে ব্যবহারের জন্য সীমিত ফি নিয়ে আলোচনা সম্ভব। তাঁর মতে, এতে হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চলাচল ফিরিয়ে আনতে সাহায্য হতে পারে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Rana Das

Rana Das pioneered Bengali digital journalism by launching eKolkata24.com in 2013, which later transformed into Kolkata24x7. He leads the editorial team with vast experience from Bartaman Patrika, Ekdin, ABP Ananda, Uttarbanga Sambad, and Kolkata TV, ensuring every report upholds accuracy, fairness, and neutrality.

Follow on Google