নয়াদিল্লি: ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালীতে ইরান অত্যন্ত সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পালটা জবাব দিতে এই জলপথ দিয়ে যাওয়া একাধিক জাহাজকে নিশানা করে তেহরান। ফলে বহু আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থা এই রুট পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে শুরু করেছে। কিন্তু ভারত এই ঝুঁকিপূর্ণ পথেই নিজেদের বাণিজ্যিক পারাপার সচল রেখেছে। শুক্রবার এক আন্তঃমন্ত্রক বৈঠকে ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রকের ডিরেক্টর ওপেশ কুমার শর্মা জানান, কীভাবে এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ভারত ও ইরানের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে জাহাজ পারাপার করানো হচ্ছে, তা কৌশলগত কারণে সম্পূর্ণ খোলসা করা সম্ভব নয়। তবে বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) মাধ্যমে এই গোটা প্রক্রিয়ার তদারকি করা হচ্ছে। (India Continues Shipping Through Hormuz Strait Amid Iran-Israel Conflict)
অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উদ্ধার
নৌপরিবহন মন্ত্রক জানিয়েছে, কোন জাহাজটিকে আগে বের করে আনা হবে, তা যৌথভাবে ঠিক করছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক (MOPNG) এবং সার মন্ত্রক। প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও জরুরি সামগ্রী সরবরাহ সচল রাখতেই এই অগ্রাধিকার (Priority List) ঠিক করা হচ্ছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী এলাকায় ভারতের ১৩টি পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। যার মধ্যে ১টি এলপিজি ট্যাঙ্কার, ৫টি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার, ১টি কেমিক্যাল ট্যাঙ্কার, ৩টি কন্টেইনার জাহাজ, ২টি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং ১টি ড্রেজার রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে সমস্ত বিপদ মাথায় নিয়ে ‘শিবালিক’, ‘নন্দাদেবী’, ‘জগ লাডকি’, ‘পাইন গ্যাস’, ‘জগ বসন্ত’, ‘বিডব্লিউ টায়ার’, ‘বিডব্লিউ এলম’ এবং ‘গ্রিন সানভি’-র মতো ভারতীয় জাহাজগুলি এই জলপথ সফলভাবে পার করেছে।
জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা নিয়ে উদ্বেগ
সাংবাদিকদের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, ইন্টারনেটে সাধারণ মানুষের জন্য উপলব্ধ ‘শিপ ট্র্যাকিং ডেটা’র মাধ্যমে ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে কি না। এই বিষয়ে ওপেশ কুমার শর্মা বলেন, “এগুলি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক অ্যাপ্লিকেশন, যা সাবস্ক্রিপশন নিলেই যে কেউ দেখতে পারেন। পাবলিক ডোমেনে থাকা এই তথ্যের কেউ অপব্যবহার করবে কি না, তা সম্পূর্ণ তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে। তবে আপাতত এই ডেটা আমাদের এবং আপনাদের জাহাজগুলির অবস্থান ট্র্যাক করতে সাহায্যই করছে।”




















