NITI Aayog: ২০৩৫ সালে ২০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর বাজার

AI, ৫জি-৬জি ও বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বাড়ায় ভারতের সেমিকন্ডাক্টর বাজারে বিশাল বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে নীতি আয়োগ (NITI Aayog)।

By Rana Das

Published:

Follow Us
india-semiconductor-market-may-cross-200-billion-dollar-by-2035

নয়াদিল্লি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ৫জি-৬জি নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টরের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে নীতি আয়োগ (NITI Aayog)।

নীতি আয়োগের নতুন গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিতে পারলে ভারত পুরনো ধাপগুলো টপকে সরাসরি উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে সক্ষম হবে।

   

২০৩৫ সালে ভারতের বাজার ২০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে

রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। আগামী কয়েক বছরে এই বৃদ্ধির হার আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

নীতি আয়োগের দাবি, ভারতের সেমিকন্ডাক্টর বাজার বার্ষিক গড়ে ১৯ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। এর ফলে ২০৩০ অর্থবর্ষে বাজারের আকার ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। একই ধারা বজায় থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ২০০ বিলিয়ন ডলারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

AI ও ডেটা সেন্টারের চাহিদায় বাড়ছে সেমিকন্ডাক্টরের গুরুত্ব

রিপোর্টে বলা হয়েছে, AI, ডেটা সেন্টার, ক্লাউড পরিষেবা, স্বয়ংক্রিয় গাড়ি এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো প্রযুক্তির কারণে সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা নজিরবিহীনভাবে বাড়ছে।OK

নীতি আয়োগের মতে, “সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যতের প্রযুক্তির ভিত্তি। AI, IoT এবং ৫জি-৬জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে এই চিপগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বিশ্ব বাজারেও দ্রুত বৃদ্ধি

২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার ৬.৫ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে এই বৃদ্ধির হার ৮.৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর বিক্রি ২০২৪ সালে ৬৩১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০৩০ সালে ১,০২৯ বিলিয়ন ডলার এবং ২০৩৫ সালে ১,৫৪৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে।

শুধু ভোক্তা নয়, প্রযুক্তি নির্মাতাও হতে চায় ভারত

নীতি আয়োগ মনে করছে, ভারতকে শুধুমাত্র সেমিকন্ডাক্টরের ভোক্তা হয়ে থাকলে চলবে না। বরং ভবিষ্যতের প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নিতে হবে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, “ভারতকে শুধু নিচের স্তরের ব্যবহারকারী না থেকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তির সহ-নির্মাতা হতে হবে। এর জন্য ডিজাইন, অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং এবং কৌশলগত উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।”

জিওপলিটিক্যাল ঝুঁকির কথাও উল্লেখ

বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খল অত্যন্ত আন্তঃনির্ভরশীল হওয়ায় প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে নীতি আয়োগ।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন বহু গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকে সমস্যায় ফেলেছে। তাই বিভিন্ন দেশ এখন নিজেদের শক্তিশালী স্থানীয় সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চাইছে।

কৃষি থেকে প্রতিরক্ষা, সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে ব্যবহার

সেমিকন্ডাক্টরের ব্যবহার এখন শুধু মোবাইল বা কম্পিউটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কৃষিক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য উন্নত চিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবার কৃষিক্ষেত্রে সেন্সর এবং প্রসেসর ব্যবহার করে মাঠের তথ্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Rana Das

Rana Das pioneered Bengali digital journalism by launching eKolkata24.com in 2013, which later transformed into Kolkata24x7. He leads the editorial team with vast experience from Bartaman Patrika, Ekdin, ABP Ananda, Uttarbanga Sambad, and Kolkata TV, ensuring every report upholds accuracy, fairness, and neutrality.

Follow on Google