নয়াদিল্লি: দেশে পেট্রোল, ডিজেল (Petrol Diesel) এবং এলপিজির কোনও ঘাটতি নেই বলে আশ্বাস দিল কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে জ্বালানি মজুত, সরবরাহ এবং কালোবাজারি রুখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা (Sujata Sharma)।
এক আন্তঃমন্ত্রক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে কৌশলগত মজুত (Strategic Reserve) বাড়ানোর কাজ চলছে।
এলপিজির ৩০ দিনের মজুত রাখার নির্দেশ
সুজাতা শর্মা বলেন, “আমরা কৌশলগত মজুত নিয়ে কাজ করছি। তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে বলা হয়েছে, তাদের কাছে অন্তত ৩০ দিনের এলপিজি মজুত রাখতে হবে।”
তিনি আরও জানান, অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
“দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে”
সরকারের দাবি, বর্তমানে দেশে পেট্রোল, ডিজেল, এলপিজি এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সব রিফাইনারি পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
সুজাতা শর্মা বলেন, “এলপিজি উৎপাদন এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৯০ ডিএমটি উৎপাদন হচ্ছে। কোথাও এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরশিপে সরবরাহ বন্ধের ঘটনা ঘটেনি।”
তবে তিনি স্বীকার করেন, বিভিন্ন খুচরো বিক্রয়কেন্দ্রে অস্বাভাবিক চাহিদা দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, এর পিছনে কৃষিক্ষেত্রের চাহিদা এবং বাল্ক বিক্রির প্রভাব রয়েছে।
একাধিক জেলায় বেড়েছে জ্বালানি বিক্রি
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে জ্বালানির বিক্রি ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ১৪টি জেলায় পেট্রোল বিক্রি ১০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, ছয়টি জেলায় তেল বিপণন সংস্থার বিক্রি ৩৮ শতাংশ কমেছে।
মজুত ও কালোবাজারি রুখতে অভিযান
জ্বালানি সরবরাহে অনিয়ম ঠেকাতে দেশজুড়ে অভিযান জোরদার করেছে প্রশাসন।
সুজাতা শর্মা জানান, গত চার দিনে এলপিজি নিয়ে ৬,৫০০টি অভিযান চালানো হয়েছে। পাঁচটি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পেট্রোল পাম্পগুলিতেও অভিযান চালানো হয়েছে। গত দু’দিনে ৯০০টি অভিযানে ৪১৭ লিটার পেট্রোল এবং ৭৫,৭১৫ লিটার ডিজেল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় ১২টি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
দাম স্থিতিশীল রাখতে আবগারি শুল্ক কমানোর দাবি
সরকারের দাবি, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতি লিটারে ১০ টাকা করে আবগারি শুল্ক কমানো হয়েছে। এর ফলে প্রতি মাসে প্রায় ১৪,০০০ কোটি টাকার বোঝা বহন করতে হচ্ছে।
সুজাতা শর্মা বলেন, “দাম স্থিতিশীল রাখতে এই সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” যদিও তেল বিপণন সংস্থাগুলির দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ এখনও প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা বলে তিনি জানান।
গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন
সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ারও আবেদন জানিয়েছে কেন্দ্র। সরকার আশ্বাস দিয়েছে, সব বাড়িতে এলপিজি সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া এবং পেট্রোল-ডিজেলের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে সবরকম চেষ্টা চলছে।
একই সঙ্গে শিল্প এবং বাল্ক গ্রাহকদের অনুমোদিত মাধ্যম থেকেই ডিজেল কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




















