টানা দুই মরশুম আইপিএলের প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্স শিবিরে অস্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছিল। তার উপর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হাতছাড়া, দলে তারকাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং অধিনায়ক হিসেবে হার্দিক পান্ডিয়ার (Hardik Pandya) ব্যর্থতা নিয়ে ক্রমশ জোরালো হচ্ছিল সমালোচনা। এবার সেই বিতর্কই আরও বড় আকার নিতে চলেছে। মুম্বই শিবিরের অন্দরমহল থেকে ইঙ্গিত মিলছে, আগামী মরশুমে অধিনায়কত্ব হারাতে পারেন হার্দিক। এমনকি দলেই তাঁর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে বলেও দাবি বিভিন্ন মহলের।
Read More: শতরান হাতছাড়া, তবু আইপিএলে দ্রুততম ১০০০ রানের রেকর্ড বৈভবের
গত মরশুমে রোহিত শর্মার জায়গায় হার্দিককে অধিনায়ক ঘোষণা করার পর থেকেই সমর্থকদের একাংশের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তারা আশা করেছিলেন, নতুন নেতৃত্বে দল আবার সাফল্যের পথে ফিরবে। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো ছবিই সামনে এসেছে। ব্যাট হাতে বড় রান নেই, বল হাতেও ধারাবাহিকতা নেই। নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বোলার বদল বা ব্যাটিং অর্ডারে পরীক্ষানিরীক্ষা দলের ক্ষতির কারণ হয়েছে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
দলের ভেতরেও পরিস্থিতি খুব একটা স্বাভাবিক ছিল না বলে খবর। একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে হার্দিকের দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছিল। রোহিত শর্মা ও সূর্যকুমার যাদবের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মতামত গুরুত্ব পাচ্ছিল না বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে ড্রেসিংরুমে বিভাজনের আবহ তৈরি হয়েছিল। এমনকি টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গেও হার্দিকের সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে জানা গিয়েছে।
Read More: বাংলার কোচ ফের লক্ষ্মীরতন, সফলতা সত্ত্বেও ব্রাত্য সৌরাশিস লাহিড়ী
এক প্রতিবেদনে দলের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, গোটা মরশুমেই বোঝা গিয়েছিল যে অধিনায়ক হিসেবে হার্দিকের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন অনেকেই। শেষ ম্যাচের পর নাকি কোচিং স্টাফ ক্রিকেটারদের কড়া বার্তাও দেয়। স্পষ্ট জানানো হয়, দলের কৌশল এবং বিশ্লেষকদের পরামর্শ মেনে চলতেই হবে। কারণ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার নাকি সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেছিলেন, যার প্রভাব ম্যাচের ফলাফলেও পড়েছে।
চলতি মরশুমে মুম্বইয়ের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ছিল পাওয়ারপ্লের ব্যবহার। অন্য সফল দলগুলো যেখানে শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে, সেখানে মুম্বই বারবার পিছিয়ে পড়েছে। তারকাখচিত দল হওয়া সত্ত্বেও কোনও ব্যাটার অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়ে নেই, আবার কোনও বোলারও পার্পল ক্যাপের লড়াইয়ে জায়গা করে নিতে পারেননি। যা দলের সামগ্রিক ব্যর্থতারই প্রতিফলন।
এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে কিছু রহস্যময় পোস্ট ঘিরে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। হার্দিকের ‘০৭:০৭’ স্টোরি, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট এবং মুম্বইয়ের এক তারকার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ডিলিট করা— সব মিলিয়ে চেন্নাই সুপার কিংসে হার্দিকের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের টিম ম্যানেজমেন্ট বৈঠকে বসতে চলেছে। সেখানেই হার্দিক পান্ডিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এখন দেখার, তিনি শুধুই অধিনায়কত্ব হারান, নাকি মুম্বইয়ের জার্সিতেই তাঁর অধ্যায় শেষ হয়ে যায়।




















