মস্কো: ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালকে (Ajit Doval)অনন্য সম্মান রাশিয়ায়। রাশিয়া সফরে গিয়ে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। তিনি বিশ্বের প্রথম মহাকাশচারী ইউরি গাগারিনের ব্যক্তিগত ব্যবহৃত কিংবদন্তি কালো ভলগা (GAZ-21) গাড়িটির ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পেয়েছেন। রাশিয়ার প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দোভাল ভ্যালেন্টিনা তেরেশকোভার নামাঙ্কিত জাতীয় মহাকাশ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
India’s NSA Ajit Doval given tour of legendary black Volga (GAZ-21) that belonged to the first human in space Yuri Gagarin. With Russia’s First Deputy PM, Doval visited National Space Centre named after Valentina Tereshkova, world’s first woman cosmonaut. pic.twitter.com/uYFWreTaOZ
— Aditya Raj Kaul (@AdityaRajKaul) May 29, 2026
এই সফর দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন এক অধ্যায় যোগ করেছে।রাশিয়ার মহাকাশ ইতিহাসের সঙ্গে গাগারিনের নাম অবিচ্ছেদ্য। ১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল তিনি প্রথম মানুষ হিসেবে মহাকাশে উড়ে গিয়েছিলেন। তাঁর ব্যবহৃত সেই বিখ্যাত কালো ভলগা গাড়িটি আজও রাশিয়ার জন্য গর্বের প্রতীক। গাড়িটি দেখতে দেখতে অজিত দোভালের মুখে হাসি ফুটে উঠেছিল বলে জানা গেছে। রাশিয়ার প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী দোভালকে গাড়িটির বিভিন্ন অংশ ব্যাখ্যা করে দেখান।
আরও দেখুনঃ আন্তর্জাতিক স্তরেও পরিচিতি বাড়ছে দিলীপ ঘোষের, দাবি মন্ত্রীর
গাড়ির ভেতরে বসে, স্টিয়ারিং হুইলে হাত রেখে দোভাল কিছুক্ষণ সময় কাটান। এই মুহূর্তটি দু’দেশের মধ্যে শুধু কূটনৈতিক নয়, আবেগেরও এক সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।এরপর দোভালকে নিয়ে যাওয়া হয় ভ্যালেন্টিনা তেরেশকোভার নামে গড়ে তোলা জাতীয় মহাকাশ কেন্দ্রে। তেরেশকোভা ১৯৬৩ সালে প্রথম নারী হিসেবে মহাকাশে গিয়েছিলেন। এই কেন্দ্রে রাশিয়ার মহাকাশ অভিযানের নানা স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত রয়েছে।
দোভাল সেখানে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও রাশিয়ার মহাকাশ কর্মসূচির বিভিন্ন মডেল, স্যাটেলাইট, রকেটের অংশ এবং মহাকাশচারীদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম দেখেন। কেন্দ্রের কর্মকর্তারা তাঁকে বিস্তারিত ব্রিফিং দেন। দোভাল বিশেষ করে ভারত-রাশিয়া যৌথ মহাকাশ প্রকল্প নিয়ে আগ্রহ দেখান।রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত আমাদের বিশ্বস্ত বন্ধু। অজিত দোভালের মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তির এই সফর আমাদের দু’দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।”
অজিত দোভাল জবাবে বলেন, “রাশিয়া মহাকাশের পথিকৃৎ। গাগারিন ও তেরেশকোভার মতো বীরদের স্মৃতি দেখে আমি অনুপ্রাণিত। ভারতও মহাকাশে নিজস্ব যাত্রা জোরদার করছে। আমাদের দু’দেশ একসঙ্গে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে পারে।”এই সফরের সময় দোভাল রাশিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং মহাকাশ খাতে সম্ভাব্য নতুন প্রকল্প নিয়ে কথা হয়। ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।
সোভিয়েত আমল থেকে শুরু করে আজও রাশিয়া ভারতের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এই সফরে সেই সম্পর্কের উষ্ণতা আরও একবার প্রকাশ পেল।ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জানান, অজিত দোভালের এই সফর শুধু কূটনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিকও। গাগারিনের গাড়ি দেখার মুহূর্তটি তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। দোভাল নিজেও বলেছেন, “ইতিহাসের এই স্পর্শ অন্যরকম অনুভূতি দেয়।”




















