সঙ্গীত জগতে এবার নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেনকে (Riddhi on Indranil Sen) ঘিরে। সহ-সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগে কার্যত তোলপাড় শিল্পীমহল। তাঁর দাবি, কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল কাটমানি নিতেন, এবং যাঁরা তাঁকে তোষামোদ করতেন, তাঁরাই নাকি সরকারি সুযোগ-সুবিধা, চাকরি ও সরকারি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুযোগ পেতেন।
ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Riddhi on Indranil Sen) অভিযোগ অনুযায়ী, সঙ্গীত জগতের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাঁর দাবি, সরকারি সঙ্গীত মেলা ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও নাকি আর্থিক লেনদেনের বিষয় ছিল। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি বিভিন্ন তথ্য থাকার কথা উল্লেখ করেছেন, তবে সেগুলির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও দাবি করেন, ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ এক মিউজিশিয়ান, যার নাম তিনি ‘ঝুনু’ ও প্রবীর মল্লিক বলে উল্লেখ করেছেন, তাঁর মাধ্যমেও নাকি নানা আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। ঋদ্ধির কথায়, “সঙ্গীত মেলায় কাটমানি নেওয়া হয়। ইন্দ্রনীল সেনের একজন মিউজিশিয়ান… নাম ঝুনু, প্রবীর মল্লিক। সে কীভাবে টাকা নয়ছয় করতেন, সেই সমস্ত তথ্য আমার কাছে আছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরাও নাকি সরকারি চাকরিতে রয়েছেন।
শুধু তাই নয়, তিনি কয়েকজন সঙ্গীতশিল্পীর (Riddhi on Indranil Sen) নামও উল্লেখ করেন, যাঁরা তাঁর দাবি অনুযায়ী সরকারি চাকরি পেয়েছেন এবং সরকারি অনুষ্ঠানে নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগে উঠে এসেছে তৃষা, পারুই, গার্গী ঘোষ সহ আরও কয়েকজনের নাম। এছাড়াও নাজিমকুল হক নামের এক ব্যক্তির প্রসঙ্গও তিনি টেনে আনেন, যিনি নাকি মিউজিক কলেজে চাকরি করতেন বলে দাবি করেন ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই সমস্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যের সাংস্কৃতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনার ঝড়। সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একাংশ এই অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, অনেকেই মনে করছেন, কোনও প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা উচিত নয়, কারণ এতে ব্যক্তিগত সম্মান ও সাংস্কৃতিক জগতের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সঙ্গীত বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের সাংস্কৃতিক নিয়োগ এবং সরকারি অনুষ্ঠানের বণ্টন নিয়ে নানা অসন্তোষ থেকে এই ধরনের অভিযোগ উঠে আসতে পারে। তবে তারা এটাও বলছেন যে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই প্রতিটি অভিযোগকে যথাযথ তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্যের সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায় এবং প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সকলের।



















