লেকটাউনের বহুচর্চিত ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির মূর্তিকে (Messi Statue) ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েক মাস আগেই যে বিশালাকার মূর্তিটি শহরের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল, এখন সেটিকেই ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার ও বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা গিয়েছে, মূর্তিটি বর্তমানে অস্থির অবস্থায় রয়েছে এবং জোরালো হাওয়ায় দুলছে। ফলে যে কোনও সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতির কাজ শুরু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত থেকেই মূর্তির চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। শাল-বল্লা ও মোটা দড়ি দিয়ে পুরো কাঠামোটি ঘিরে ফেলা হয়েছে, যাতে কোনওভাবে সেটি ভেঙে পড়ে সাধারণ মানুষের ক্ষতি না করতে পারে। আপাতত মই লাগিয়ে মিস্ত্রিরা উপরের অংশ মেরামতের কাজ করছেন। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য, মূর্তিটিকে আপাতত স্থিতিশীল রাখা এবং পরে নিরাপদ উপায়ে সেটিকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া। এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মূর্তিটি বর্তমানে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে এবং সেটিকে দ্রুত সরানো প্রয়োজন। তিনি দাবি করেছেন, পূর্ত দপ্তরের জমি দখল করে অনুমতি ছাড়াই এই বিশাল কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। শুধু মূর্তিই নয়, এর নীচে যে বড় পেডেস্টাল বা ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে, সেটিও বেআইনি বলে প্রশাসনের দাবি। সেই পেডেস্টাল ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও মূর্তিটিকে নষ্ট না করে অন্য কোনও পার্ক বা উপযুক্ত স্থানে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরে কলকাতায় ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ৭০ ফুট উঁচু মূর্তির উদ্বোধন করেছিলেন মেসি নিজে। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন বিধাননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বোস। তাঁর উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানেই মূলত এই মূর্তিটি তৈরি হয়েছিল। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই মূর্তির অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূর্তিটির ভিত ততটা শক্ত নয় এবং গোটা কাঠামোর ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সেই কারণে মাটি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে শিল্পী মন্টি পালের সঙ্গেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনা করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, উপরের মূর্তির অংশটিকে অক্ষত রেখেই সরানোর চেষ্টা করা হবে। তবে নিচের বেসমেন্ট অংশ আর রাখা হবে না। যদিও মূর্তিটিকে ঠিক কোথায় স্থানান্তর করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য, কোনও বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং নিরাপদ উপায়ে এই বহুচর্চিত মূর্তিকে নতুন জায়গায় স্থানান্তর করা।



















