ঘাটালের মতোই হুগলি জেলার আরামবাগ (Arambag) মহকুমার গোঘাট, খানাকুল এবং পুরশুড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা ‘মাস্টার প্ল্যান’-এর দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতি বর্ষাতেই এই অঞ্চলগুলি জলমগ্ন হয়ে পড়ে, নদীর জল উপচে গ্রাম ও চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে কৃষিনির্ভর এই এলাকার মানুষজন বারবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি বহুদিনের। স্থানীয়দের মতে, কেবল অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা।
এই পরিস্থিতিতে বিধানসভা (Arambag) ভোটের আগে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিষয়টিও সামনে আসে। বিজেপি নেতারা তখন দাবি করেছিলেন, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে আরামবাগ মহকুমার বন্যা সমস্যা সমাধানে বিশেষ মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হবে। ভোটে আরামবাগের সবকটি আসন বিজেপির ঝুলিতে যাওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। দলের বিধায়করা জানিয়েছেন, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের প্রতি সম্মান রেখে দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সম্প্রতি নদিয়ার কল্যাণীতে(Arambag) আয়োজিত এক প্রশাসনিক বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর। সেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও সরকারি তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি, তবে প্রশাসনিক মহলে বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেই অনুযায়ী খুব শিগগিরই মাস্টার প্ল্যান তৈরির জন্য বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি হতে পারে।
রাজ্য সেচ দপ্তরের (Arambag) এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গোঘাট, খানাকুল ও পুরশুড়া এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প প্রয়োজন হতে পারে। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হবে নদীগুলির নাব্যতা বৃদ্ধি, জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত জল দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা তৈরি করা। আরামবাগ মহকুমার পাশ দিয়ে প্রবাহিত মুণ্ডেশ্বরী, রূপনারায়ণ এবং দ্বারকেশ্বর নদীর পলি অপসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীগুলির তলদেশে (Arambag) দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে জলধারণ ক্ষমতা কমে গিয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নদীর জল উপচে পড়ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য নদী খনন এবং ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে নদীবাঁধগুলিকে আরও উঁচু ও মজবুত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে জলস্তর বৃদ্ধি পেলেও বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
শুধু নদী নয়, এই প্রকল্পে যুক্ত খালগুলির সংস্কারও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে আরামবাগ ও খানাকুলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত অরোরা খালের অনেক অংশ ইতিমধ্যেই পলি জমে ভরাট হয়ে গিয়েছে। সেই পলি সরিয়ে খালের প্রবাহ পুনরুদ্ধার করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নতুন খাল খননের কথাও ভাবা হচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত জল দ্রুত নিষ্কাশন করা যায়।



















