কলকাতা: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দিন শেষ, এবার মাসে ৩,০০০ টাকা দিতে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু করতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তবে এই বিপুল আর্থিক সুবিধা পেতে গেলে উপভোক্তাদের স্ক্রিনিংয়ের এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, এই প্রকল্পের জন্য যে ১২ পাতার বিশাল ফর্মটি তৈরি করা হয়েছে, তাতে আবেদনকারী মহিলার নিজের তথ্য ছাড়াও তাঁর পুরো পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থানের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ চাওয়া হয়েছে। মূলত ভুয়ো ও অযোগ্য প্রাপকদের ছেঁটে ফেলতেই এই কড়াকড়ি। (Annapurna yojona Scheme)
৯ নম্বর পাতায় ‘শিশুদের কুষ্ঠিপত্র’
আবেদনপত্রের ৯ নম্বর পাতায় রয়েছে একটি বিশেষ অংশ- ‘সামাজিক মর্যাদা এবং নির্ভরশীল ব্যক্তিগণ’। এর অধীনে ‘বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পরিবারের সকল শিশুর বিবরণ’ দিতে হবে আবেদনকারীরে। অর্থাৎ, আবেদনকারীর বাড়িতে কোনও শিশু থাকলে সে সরকারি স্কুল, বেসরকারি স্কুল নাকি মাদ্রাসায় পড়ে, তার নাম, ক্লাস, সব স্পষ্ট করে লিখতে হবে। শুধু তাই নয়, ওই শিশুর সময়মতো সব টিকাকরণ (Vaccination) হয়েছে কি না, ফর্মে জানাতে হবে সেই তথ্যও।
রেশন কার্ড থেকে পাকা বাড়ি, ফর্মে আর কী কী তথ্য দিতে হবে?
আঞ্চলিক স্তরে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ফর্মে একাধিক কঠিন শর্ত যুক্ত করেছে নতুন সরকার। আবেদনকারী মহিলাদের ফর্ম পূরণের সময় নিম্নলিখিত তথ্যগুলি বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হবে-
ব্যাঙ্ক ও পরিচয় সংক্রান্ত: আবেদনকারীর নাম ও পরিচয়পত্রের পাশাপাশি পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং আইএফএসসি (IFSC) কোড দিতে হবে। পরিবারের কার কার রেশন কার্ড আছে, তাও উল্লেখ করতে হবে।
আর্থিক ও সম্পত্তির বিবরণ: আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় কত এবং পরিবারের কেউ কোথাও চাকরি করেন কি না, তা জানাতে হবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, পরিবারে কোনও চারচাকা গাড়ি আছে কি না বা আবেদনকারী পাকা বাড়িতে থাকেন কি না (থাকলে ক’টি পাকা বাড়ি রয়েছে), তার স্পষ্ট খতিয়ান দিতে হবে।
স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা: পরিবারের সদস্যদের কোনও স্বাস্থ্যবিমা বা হেলথ ইন্সুরেন্স করা আছে কি না এবং আবেদনকারী অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান কি না, তা ফর্মে লিখতে হবে।
নাগরিকত্ব ও আইনি অবস্থান: অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ফর্মে জানতে চাওয়া হয়েছে আবেদনকারী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) অনুযায়ী সার্টিফিকেট পাওয়ার আবেদন করেছেন কি না। পাশাপাশি, ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার ট্রাইব্যুনালে তাঁর নাম বিচারাধীন আছে কি না, সেই তথ্যও সরকারকে দিতে হবে।
বিগত সরকারের দেওয়া আর্থিক অনুদানের নিয়মকে পুরোপুরি বদলে দিয়ে, রাজকোষের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই শুভেন্দু সরকার এই ১২ পাতার ফর্মে কড়া স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



















