মায়াপুরে গো-সেবা ও পুজো উপলক্ষে পৌঁছে গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর এই সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে মায়াপুর ইস্কন চত্বরে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দুই ক্ষেত্রেই এই সফরকে ঘিরে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গো-সেবার জন্য ৪৫০টি গরুকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। গরুগুলিকে খাওয়ানোর জন্য তরমুজ, আম, কলা-সহ নানা ধরনের ফল এবং পর্যাপ্ত ঘাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ইস্কন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারীর সফরের মূল আকর্ষণ হতে চলেছে গো-সেবা কর্মসূচি। গরুকে ভারতীয় সংস্কৃতিতে ‘গো-মাতা’ হিসেবে সম্মান করা হয়। সেই ভাবধারাকেই সামনে রেখে এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সম্বোধন করে অনেক ভক্ত ও সমর্থক তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও রাজনৈতিক মহলে এই সম্বোধন নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।
মায়াপুরে পৌঁছানোর পর শুভেন্দু অধিকারী প্রথমে গো ৪৫০টি গরুর মধ্যে শেষ পর্যন্ত কতগুলো গরুকে তিনি নিজ হাতে খাওয়াবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গরুগুলির জন্য আলাদা আলাদা করে ফল, সবজি ও পশুখাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইস্কন মন্দির চত্বরে ইতিমধ্যেই সেই প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে।
শুধু গো-সেবা নয়, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর। সূত্রের খবর, গো-সেবার পর তিনি রাধামাধবের দর্শন করবেন। এরপর মন্দিরে বিশেষ আরতিতেও অংশ নিতে পারেন তিনি। জানা যাচ্ছে, নিজের হাতেই আরতি করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই অংশটিকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যেও আলাদা উৎসাহ দেখা দিয়েছে।
মায়াপুর ইস্কন মন্দির আন্তর্জাতিক স্তরে অত্যন্ত পরিচিত একটি ধর্মীয় কেন্দ্র। দেশ-বিদেশ থেকে বহু ভক্ত প্রতিদিন এখানে আসেন। ফলে শুভেন্দু অধিকারীর এই সফর স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি ধর্মীয় আবহকেও আরও জোরদার করেছে। ইস্কন কর্তৃপক্ষের তরফে নিরাপত্তা ও আয়োজনের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের আরও খবর, মন্দির দর্শন ও আরতির পর ইস্কন মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকে ধর্মীয় কার্যক্রম, সামাজিক উদ্যোগ ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও বৈঠকের নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।



















