কলকাতা: তৃণমূলের সমস্ত দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার দিনই লোকসভার স্পিকারের কাছে কল্যাণের বিরুদ্ধে নালিশ ঠুকলেন কাকলি ঘোষদস্তিদার। স্পিকার ওম বিড়লাকে লেখা চিঠিতে বারাসতের সাংসদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, লোকসভার ভেতরেই শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বার বার মৌখিক হেনস্থা করেছেন। শুধু তাই নয়, লোকসভার মহিলা সদস্যদের প্রতি কল্যাণের দৃষ্টিভঙ্গি চরম ‘নারীবিদ্বেষী’ এবং এই অশালীন আচরণের জন্য তাঁর কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মনে করেন কাকলি। এই নজিরবিহীন চিঠির বিষয়ে সবিস্তার জানতে আনন্দবাজার ডট কমের তরফে দুই সাংসদের সঙ্গেই ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকেই পাওয়া যায়নি।
দলের পদত্যাগপত্রেও কল্যাণের দিকে তির
গত রবিবারই বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে প্রশান্ত কিশোরের আই-প্যাক সংস্থাকে ‘ভুঁইফোঁড়’ বলে তোপ দেগেছিলেন কাকলি। এর পর বুধবার দলীয় পদ ছাড়ার সময় শীর্ষ নেতৃত্বকে দেওয়া চিঠিতে নাম না-করে কল্যাণকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। কাকলি লেখেন, “যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের উপর অন্য এক জন অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা-সহানুভূতি পাওয়া যায় না, সে পদে থাকার মানে হয় না।”
‘নারদ-সিন্ডিকেট’ তুলে কল্যাণের পাল্টা তোপ
কাকলির এই অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই পাল্টা আক্রমণের সুর চড়িয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদের দোহাই দিয়ে কাকলির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন তিনি। কল্যাণের পাল্টা তোপ, “ওঁর (কাকলির) আবার কিসের এত কথা? নারদে তো আমি পাঁচ লক্ষ টাকা নিইনি, উনি নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘সিন্ডিকেট’ শব্দের জন্মদাত্রী কে? সকলে জানেন, সেই সিন্ডিকেটের জন্মস্থান রাজারহাট।”
স্পিকারের কোর্টে বল, কৌতূহলী রাজনৈতিক মহল
কল্যাণের বিরুদ্ধে কাকলির এই চিঠি দিল্লির রাজনৈতিক মহলে এক নতুন কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক শিবিরের অনেকেই জানেন যে, রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে কল্যাণের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বরাবরই বেশ মধুর। এই সমীকরণের আবহে, নিজেরই দলের মহিলা সাংসদের করা এই গুরুতর হেনস্থার অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্পিকার শেষ পর্যন্ত কল্যাণের বিরুদ্ধে কী আইনি বা সংসদীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, এখন সেদিকেই গভীর নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।



















