ওয়াশিংটন: হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকার সঙ্গে ইরানের টানাপোড়েন চলছে। কিন্তু এবার খোদ ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের এক ‘বন্ধু’ দেশের ওপর আক্রমণ হানার হুমকি দিয়ে বসলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ট্রাম্পের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে (যার সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম), যেখানে তাঁকে ওমানের উপর সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিতে শোনা গিয়েছে। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ট্রাম্প কি সত্যিই ওমানকে হুমকি দিলেন, নাকি নাম গুলিয়ে আসল নিশানায় ছিল ইরান? (Donald Trump Oman Threat)
“না হলে গুঁড়িয়ে দেব…” কী বলেছেন ট্রাম্প?
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে ট্রাম্পকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বলতে শোনা গিয়েছে, “না, (হরমুজ়) প্রণালী সকলের জন্যই খোলা থাকবে। এটা আন্তর্জাতিক এলাকা। ওমানকেও সকলের মতোই আচরণ করতে হবে। না হলে ওদের গুঁড়িয়ে দেব।” তবে এর পরেই সুর নরম করে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলতে শোনা যায়, “তবে আমার মনে হয়, ওরা ঠিকই থাকবে।”
ইরান-ওমান গুলিয়ে ফেলার পুরনো রোগ?
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরেই বিশ্বজুড়ে তীব্র ধন্দ তৈরি হয়েছে। কূটনীতিবিদদের একাংশের দাবি, ট্রাম্প আসলে ওমান বলতে গিয়ে ইরানের কথা বলতে চেয়েছেন। অতীতেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার সময় একাধিক বার তিনি ইরান এবং ভেনেজুয়েলাকে গুলিয়ে ফেলেছিলেন বলে নজির রয়েছে। এই বিভ্রান্তি দূর করতে সংবাদ সংস্থা এএফপি-র (AFP) তরফে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের এই অসাবধানী মন্তব্য নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সদর দফতর এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া বা স্পষ্টিকরণ দেয়নি।
বন্ধুর ওপর চটার নেপথ্যে কোন সমীকরণ?
মধ্যপ্রাচ্যে ওমান কিন্তু আমেরিকার বহু পুরনো ও বিশ্বস্ত বন্ধুদেশ হিসেবেই পরিচিত। এমনকি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার পরমাণু চুক্তি বা শান্তি আলোচনাতেও একাধিকবার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে ওমান। তা সত্ত্বেও ট্রাম্পের এই আকস্মিক হুঁশিয়ারির পেছনে গভীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই হরমুজ় প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ। ইরান বরাবরই দাবি করে এসেছে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে এই প্রণালীর আংশিক নিয়ন্ত্রণ ওমানের হাতে থাকবে। ওমানও ইরানের এই অবস্থানকে আংশিক সমর্থন জানিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ইরানের সুরক্ষার এই আন্তর্জাতিক আইনি ঢালকে মেনে নিতে পারছেন না ট্রাম্প, আর সেই ক্ষোভ থেকেই তাঁর মুখ ফসকে বেরিয়েছে ওমানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার বার্তা।




















